আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী দফার আলোচনা নিয়ে যা জানাল ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনার বিষয়ে এখনো কোনো দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়নি বলে জানিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ। স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ এপ্রিল) তুরস্কের আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি তেহরানের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। খবর আল-জাজিরার। 

খতিবজাদেহ বলেন, “বর্তমানে আমরা দুই পক্ষের মধ্যে বোঝাপড়ার কাঠামোটি চূড়ান্ত করার দিকে মনোনিবেশ করছি। আমরা আশা করি যে... যখনই আমরা এটি চূড়ান্ত করতে পারব, তখনই পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারব।”

আলোচনার অচলাবস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “যতক্ষণ না আমরা এই কাঠামোতে একমত হচ্ছি, ততক্ষণ আমরা কোনো তারিখ নির্ধারণ করতে পারছি না। উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল; কিন্তু অপর পক্ষের অযৌক্তিক সর্বোচ্চ দাবি আদায়ের মনোভাব এবং ইরানকে আন্তর্জাতিক আইনের ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করার চেষ্টার কারণে আমরা চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি।”

তিনি জোর দিয়ে আরো বলেন, “ইরান আন্তর্জাতিক আইনের কোনো ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হওয়া মেনে নেবে না।আমরা পরমাণু অস্ত্র অ-বিস্তার চুক্তির (এনটিপি) সদস্য; আমরা আইএইএ-এর সদস্য। আমাদের যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনি আমাদের কিছু অধিকারও আছে। ইরান তার অধিকার পাওয়ার দাবি রাখে এবং আমরা আমাদের অধিকার ত্যাগ করব না।”

হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “লেবাননে যুদ্ধবিরতির পর ইরান ঘোষণা করেছিল যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব। কিন্তু এরপর অপর পক্ষ, অর্থাৎ আমেরিকানরা এটা বলে নাশকতার চেষ্টা করেছে যে- সবাই যেতে পারবে শুধু ইরানিরা ছাড়া। আমরা বলেছি যে, আপনারা যদি যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী লঙ্ঘন করেন এবং আমেরিকানরা যদি তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে, তাহলে তার পরিণতি তাদের ভোগ করতে হবে।”

আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করার জন্য ওয়াশিংটনকে অভিযুক্ত করে তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা আলোচনার নামে আলোচনা দীর্ঘায়িত করে এবং কূটনীতির নামে এক ধরনের ‘সার্কাস’ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা মূলত কূটনীতিকে ক্লান্ত ও ব্যর্থ করার চেষ্টা করছে।”