সারা বাংলা

রাঙামাটিতে আগের দামেই মিলছে ডিজেল

দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা কার্যকর হলেও রাঙামাটির চিত্র কিছুটা ভিন্ন। জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে মজুদ থাকা সাপেক্ষে এখনও আগের নির্ধারিত দামেই বিক্রি হচ্ছে ডিজেল। সরকারের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রভাব রাঙামাটির সাধারণ ভোক্তাদের ওপর না পড়ায় জনমনে সাময়িক স্বস্তি দেখা দিয়েছে।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) ডিজেল বিক্রির নির্ধারিত দিন হওয়ায় সকাল থেকেই পাম্পগুলোতে ভিড় করেন গ্রাহকরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, পাম্প কর্তৃপক্ষ বাড়তি দামের পরিবর্তে পূর্বের দরেই ডিজেল সরবরাহ করছে। রাঙামাটির জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বর্তমানে বিশেষ রেশনিং পদ্ধতি চালু রয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহে তিন দিন ডিজেল এবং তিন দিন অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি করা হয়। 

পুরোনো দামে তেল কিনতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে বোট চালক ও কৃষিজীবী মানুষরা চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। 

ভোক্তারা জানান, এমনিতেই জ্বালানি সংকটে তাদের নাভিশ্বাস উঠছে, তার ওপর এই মূল্যবৃদ্ধি কৃষি কাজকে সরাসরি বাধাগ্রস্ত করবে। বোট চালকদের মতে, রাঙামাটির যাতায়াত ব্যবস্থা অনেকাংশেই নৌপথের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।

মেসার্স এস এন পেট্রোলিয়াম এজেন্সির ব্যবস্থাপক মো. ইদ্রিস বলেন, নীতিগতভাবেই তারা মজুদ থাকা তেল আগের দামে বিক্রি করছেন। তবে বাজারে কৃত্রিম সংকট এড়াতে ‘ফুয়েল কার্ড’ ছাড়া কাউকে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না। মজুদ শেষ হওয়ার পর নতুন দরে তেল বিক্রি শুরু হবে বলেও তারা নিশ্চিত করেন।

সরকারের মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যাতে সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলতে না পারে, সে জন্য পাম্পগুলোতে কঠোর তদারকি করছেন প্রশাসনের নিযুক্ত ট্যাগ অফিসাররা। 

দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার শান্তনু খীসা বলেন, কেউ যাতে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি রাখতে না পারে এবং তেলের অবৈধ মজুদ না হয়, সে বিষয়ে আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছি।