জাতীয়

কুইক রেন্টালে লুটপাটের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে 

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিদ্যুৎ খাতে কুইক রেন্টাল প্রকল্পের নামে লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। এ কাজে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

মন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০’ জারি করা হয়। এই আইনের আওতায় উন্মুক্ত দরপত্র বা স্বচ্ছ ক্রয় প্রক্রিয়া ছাড়াই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদনের সুযোগ তৈরি হয়েছিল।”

তিনি জানান, ওই আইনের ৫ ধারার আওতায় গঠিত নেগোসিয়েশন কমিটির মাধ্যমে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ট্যারিফ নির্ধারণ করা হতো। এতে অনেক ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক উচ্চ মূল্য ও অতিরিক্ত ক্যাপাসিটি চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব প্রকল্পে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা এবং তাদের ঘনিষ্ঠদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে, যার মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

সরকারি পদক্ষেপের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিতর্কিত বিশেষ বিধান আইনটি বাতিল করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। গত ৭ এপ্রিল ২০২৬ জাতীয় সংসদে এটি বিল আকারে পাস হয়। এর ফলে পূর্বের মতো অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ বন্ধ হয়েছে।”

পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথভাবে কাজ করছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী।