গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন ঘিরেই শুরু হয়েছিল এক ভিন্ন গল্প। সেই নির্বাচনে ছাত্র অধিকার পরিষদের প্যানেল থেকে সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন রিদুয়ানুল হক ইমন। প্রচারে অংশ নিতে গিয়ে তার পরিচয় হয় মুসলিমার সঙ্গে। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, ভালো লাগা, শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্ক গড়ায় বিয়েতে।
নির্বাচনে জয়ী হতে না পারলেও জীবনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন ইমন। রাকসুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া পরিচয়ই ধীরে ধীরে রূপ নেয় সম্পর্কে, আর সেই পথচলাই তাকে এনে দেয় জীবনসঙ্গী হিসেবে মুসলিমাকে। কখনো কখনো পরাজয়ের ভেতর দিয়েও অন্য এক ধরনের জয় এসে ধরা দেয়, ইমনের গল্প যেন তারই উদাহরণ।
চার মাসের সম্পর্কের পর গত ৭ এপ্রিল উভয় পরিবারের সম্মতিতে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করেন তারা।
ইমন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে। অন্যদিকে মুসলিমা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী, তার বাড়ি বাগেরহাটে।
প্রেমের শুরু প্রসঙ্গে ইমন জানান, রাকসু নির্বাচনের প্রচারের শেষ দিনে মমতাজ উদ্দীন কলাভবনের সামনে প্রথম দেখাতেই মুসলিমাকে ভালো লাগে তার। পরিচিত এক বন্ধুর মাধ্যমে যোগাযোগের সূত্র তৈরি হয়। পরে মুসলিমা ফেসবুকে রিকোয়েস্ট পাঠালে তাদের মধ্যে কথোপকথন শুরু হয়। ধীরে ধীরে তা গড়ায় নিয়মিত আড্ডা ও একসঙ্গে সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে সম্পর্কে।
পরিবারে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার প্রসঙ্গে ইমন জানান, “একবার মুসলিমা অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। এরপর মুসলিমার ভাইয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। শুরুতে বিয়ে নিয়ে তাড়াহুড়োর পরিকল্পনা না থাকলেও বিষয়টি পরিবারে জানাজানি হলে উভয় পক্ষ রাজশাহীতে বসে আলোচনা করেন। পরে ৭ এপ্রিল বিনোদপুর কাজী অফিসে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ১৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি সবাইকে জানানো হয়।
পরিবারের সম্মতি পাওয়া প্রসঙ্গে ইমন বলেন, “শুরুতে পরিবার রাজি ছিল না, কারণ আমরা দুজনই তখনো শিক্ষার্থী। পরিবার চাইছিল পড়াশোনা শেষ করে বিয়ে হোক। তবে, আমরা নিজেদের অবস্থান বুঝিয়ে বললে পরে উভয় পরিবারই সম্মতি দেয়।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ইমন জানান, তারা পড়াশোনা শেষ করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চান এবং দেশে বা বিদেশে ভালো চাকরির মাধ্যমে সুন্দর জীবন গড়ার ইচ্ছা রয়েছে।
বিয়ের অনুভূতি প্রকাশ করে মুসলিমা বলেন, “সবকিছু খুব অল্প সময়ে হলেও অনুভূতিটা গভীর ও আন্তরিক। বন্ধুত্ব থেকে ভালো লাগা, সব মিলিয়ে ইমনকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হওয়ায় স্বস্তিও বেশি। এখন আমাদের লক্ষ্য পড়াশোনা শেষ করে একসঙ্গে ভালো কিছু করা এবং সুন্দরভাবে জীবন গুছিয়ে নেওয়া।”