সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিলেন অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। তবে বিএনপির চূড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকলেও এতে কোনো আক্ষেপ নেই তার। বরং এই অভিজ্ঞতাকে রাজনৈতিক যাত্রার শুরু হিসেবে দেখছেন তিনি।
মনোনয়ন তালিকা প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে চমক সরাসরি ভক্তদের সঙ্গে কথা বলেন। শুরুতেই নেতিবাচক মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, “আমি আমার পরাজয়কে উদযাপন করছি। আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত সাহস। আমি আরো দুইশবার ফেল করব, দুইশবার চেষ্টা করব। এটা আমার শুরু। আমার রাজনৈতিক পথচলার শুরুই হলো এমপি প্রার্থী হয়ে। যারা যোগ্য, তাদেরই আগে সুযোগ দেওয়া হবে—এতে আমার কোনো আক্ষেপ নেই।”
শুধু সমালোচনা নয়, ভক্তদের কাছ থেকে ইতিবাচক মন্তব্য, সমর্থন এবং শুভকামনাও পেয়েছেন চমক। সেসব প্রতিক্রিয়ায় অনুপ্রাণিত হয়ে চমক বলেন, “খেলা তো মাত্র শুরু হলো। সামনে জাতীয় নির্বাচন করব।”
জুলাই গণ-অভ্যত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখার মাধ্যমে রাজনীতিতে তার প্রথম উপস্থিতি। এরপর হঠাৎ প্রার্থী হওয়ার ঘোষণায় নতুন করে চমক সৃষ্টি করেন তিনি। রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন হলেও দলীয় সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী।
রুকাইয়া জাহান চমক বলেন, “আমি রাজনীতিতে একেবারেই নতুন। সংরক্ষিত নারী আসনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই আমার পথচলা শুরু। দল থেকে যে অসামান্য সমর্থন ও সহযোগিতা পেয়েছি, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”
অভিনয়ের পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরতে নিয়মিত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে কনটেন্ট তৈরি করছেন চমক। ভবিষ্যত পরিকল্পনায়ও সেই কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে নিজের জেলা কুষ্টিয়ার জন্য কাজ করার আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন।
রুকাইয়া জাহান চমক বলেন, “আমার মূল লক্ষ্য দেশ ও মানুষের সেবা করা। আমি কুষ্টিয়ার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই এবং আমাদের হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে চাই।”
এদিকে, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়ায় ফরিদা ইয়াসমিনকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। নিজের রাজনৈতিক পথচলাকে আপাতত ‘শুরু’ বলেই দেখছেন চমক—যেখানে পরাজয়ও তার কাছে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।