চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে সালাম নামে (২৫) নামে এক তরুণকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা শিশু ধর্ষণ অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোস্তাগীর আলম এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের রায় অনুযায়ী, সালামকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের পৃথক দুটি ধারায় সাজা প্রদান করা হয়েছে।
মামলায় আইনের ৯(১) ধারায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, আইনের ৭ ধারায় তাকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। উভয় সাজা পর্যায়ক্রমে কার্যকর হবে বলে আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ কার্পাসডাঙ্গা এলাকা থেকে ১০ম শ্রেণির ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় অপহরণ করেন সালাম। পরবর্তীতে ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ভুয়া বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং কাল্পনিক কাবিননামা তৈরি করে ধর্ষণ করা হয়।
এ ঘটনায় ছাত্রীর মা বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হারুন অর রশীদ দীর্ঘ তদন্ত শেষে আসামি সালাম এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে অপহরণে সহায়তার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলেও প্রমাণের অভাবে মামলার অন্য আসামি বজলুর রশীদ মজু, মনোয়ারা বেগম এবং জালাল ওরফে শাহজালালকে মামলার দায় হতে অব্যাহতি প্রদানের সুপারিশ করা হয়।
এছাড়া, মামলার দুই নম্বর আসামি আল-আমিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) এম এম শাহজাহান মুকুল বলেন, “রায়ে বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছে। আশা করি এর মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।