আশির দশকের শেষ ভাগ কিংবা নব্বইয়ের উত্তাল সময়—দেশের শোবিজ অঙ্গনে তখন একচ্ছত্র রাজত্ব তৌকীর আহমেদের। সাধারণ এক তরুণ থেকে সুপারস্টার হয়ে ওঠার সেই জাদুকরী প্রভাব কাছ থেকে দেখেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা মাহফুজ আহমেদ।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় তৌকীর আহমেদের ৬০ বছর পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত ‘ছয় দশক পেরিয়ে তৌকীর আহমেদ’ অনুষ্ঠানে সেই সোনালি দিনের স্মৃতিচারণ করেন তারকা অভিনেতা মাহফুজ।
মাহফুজ আহমেদ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ফিরে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোতে। তিনি বলেন, “আমি তখন মহসীন হলে থাকি, তৌকীর ভাই পড়েন বুয়েটে। তার একটা লাল রঙের মোটরসাইকেল ছিল। একদিন তিনি আমাকে তার বাইকে করে হলে পৌঁছে দিয়েছিলেন। সেই জার্নিতেই আমি প্রথম টের পেয়েছিলাম ‘স্টার’ কাকে বলে এবং একজন অভিনেতা মানুষকে কতটা জয় করতে পারেন। সেই দিনের অভিজ্ঞতা আমার মগজে সারাজীবনের জন্য গেঁথে আছে।”
নব্বই দশকে তরুণ প্রজন্মের ফ্যাশন সেন্স বদলে দেওয়ার কারিগর হিসেবে তৌকীর আহমেদকে কৃতিত্ব দেন মাহফুজ। তিনি বলেন, “জিন্স আর টি-শার্ট এই দেশের তরুণদের হাতে ধরে শিখিয়েছেন তৌকীর ভাই। ‘ফিরিয়ে দেওয়া অরণ্যে’ নাটকে তার সেই লুক দেখার পর এলিফ্যান্ট রোডে জিন্স-টি শার্ট কেনার হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। এমনকি, আমি যখন নায়ক হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম, তখন তৌকীর ভাই কীভাবে হাঁটেন, কী পরেন—সবকিছু ফলো করতাম।”
শিল্পী নাকি জনপ্রিয় হয় না, কিংবা ভালো কাজ জনপ্রিয় হয় না—এমন প্রচলিত ধারণাকে তৌকীর আহমেদ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিলেন বলে মনে করেন মাহফুজ। প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আশির দশকের শেষ থেকে বিংশ শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত তৌকীর আহমেদের চেয়ে জনপ্রিয় আর কেউ কি ছিল? আমি মনে করতে পারি না।”
তৌকীর আহমেদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে মাহফুজ আহমেদ বলেন, “তৌকীর আহমেদ আমাদের প্রজন্মের সবচেয়ে অগ্রগ্রামী পুরুষ। তাকে একসময় ভীষণ ঈর্ষা করতাম। কিন্তু আজ অকপটে বলছি, আপনি আমাদের শিক্ষক।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শক ও সুধীজন মাহফুজের এই অকপট স্বীকারোক্তিকে করতালির মাধ্যমে সাধুবাদ জানান। তৌকীর আহমেদের কর্মময় জীবনের ছয় দশক উদযাপনে মাহফুজের এই বক্তব্য অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।