খেলাধুলা

সৌম্যর ফেরার ম্যাচে উজ্জ্বল নাহিদ, সিরিজের ফয়সালা চট্টগ্রামে

যাকে ফেরানো নিয়ে প্রবল আলোচনা চলছিল, যার ওপর প্রতাশ্যার চাপ ছিল আকাশচুম্বি সেই কিনা একটি পারফেক্ট ম্যাচের আক্ষেপ হয়ে থাকলেন। সৌম্য সরকার একাদশে ফিরলেন। স্কোয়াডে রেখেও তাকে বেঞ্চে কেন বসিয়ে রাখা হচ্ছে সেই প্রশ্ন শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে যাচ্ছিল কোচ, অধিনায়ক ও নির্বাচকদের। বারবারই তারা আশ্বাস দিচ্ছিলেন সুযোগ আসবে। 

সেই সুযোগটি এলো বাংলাদেশের সিরিজের বাঁচানোর লড়াইয়ের দিন। সোমবার ব্যাট-বলে দারুণ পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ ম্যাচটা জিতে তিন ম্যাচ সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে। কিন্তু আক্ষেপ কেবল সৌম্য। নাহিদ রানার ৫ উইকেটে নিউ জিল্যান্ডকে ১৯৮ রানে আটকে রাখে বাংলাদেশ। জবাবে তানজিদ ও নাজমুলের ব্যাটিং জবাবে বাংলাদেশ ম্যাচটা জিতে নেয় ৬ উইকেটে, ৮৭ বল হাতে রেখে। ম্যাচ সেরা হয়েছেন নাহিদ।

৪ ম্যাচ পর একাদশে ফিরে সৌম্য ব্যাটিংয়ে করলেন ১১ বলে ৮ রান। পেসার ও’রুর্ককে কাভার ড্রাইভে ছক্কা উড়ানোর পর তার বাউন্সার সামলাতে না পেরে স্লিপে ক্যাচ দেন। এর আগে অবশ্য ৪ ওভারে ২৭ রানে ১ উইকেট পেয়েছিলেন। তুলে নিয়েছিলেন নিউ জিল্যান্ডের অধিনায়ক টম লাথামের উইকেট। কিন্তু তার আসল কাজ ব্যাটিংয়ে পেয়েছেন ‘জিরো মার্কস।’ আফিফ হোসেনের পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছিলেন সৌম্য। কিন্তু পারফরম্যান্সের আড়ালেই থাকলেন তিনি।

সৌম্য আড়ালে থাকলেও লাইমলাইটে থাকা নাহিদ রানা তেজদ্বীপ্ত হয়ে পুড়িয়েছেন নিউ জিল্যান্ডকে। ১০ ওভার হাত ঘুরিয়ে ১ মেডেনে ৩২ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন। গতি, সুইং, বাউন্সারে নাহিদ ছিলেন অনন্য, অসাধারণ। তপ্ত গরমেও নিজের মনোবল, সামর্থ্যে নাহিদ ছিলেন স্থির। তাতে বোলিংও হয়েছে ধ্রুপদী।

উইকেট কেমন, তা নিয়ে ছিল ধোঁয়শা। নাহিদ রানার পক্ষে থাকবে না তা আগের থেকেই ধারণা করা যাচ্ছিল। তার খেলা না খেলাা নিয়েও ছিল শঙ্কা। কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে বিরুদ্ধ উইকেটে, কঠিন কন্ডিশনে খেলানোর চ্যালেঞ্জ নেয়। নাহিদ ৫ উইকেট নিয়ে দেন প্রতিদান। তিন ম্যাচ আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুরেই ২৪ রানে পেয়েছিলেন ৫ উইকেট। এবার ৩২ রানে শিকার ৫ উইকেট। যা তার ক‌্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেরা। বাংলাদেশের পেসারদের মধ‌্যে ৫ উইকেট ৫টি আছে মোস্তাফিজুর রহমানের। ২টি করে আছে নাহিদ রানা ও তাসকিন আহমেদের। 

ইনিংসের শুরু থেকেই নাহিদ ছিলেন আক্রমণাত্মক। অষ্টম ওভারে প্রথম বল হাতে নিয়ে প্রথম বলেই পেয়ে যান উইকেট। দশম ওভারের প্রথম বলে আবার তার হাত ধরে আসে সাফল‌্য। হেনরি নিকোলস (১৩) ও উইল ইয়ংকে (২) ফেরান তিনি। এরপর দ্বিতীয় স্পিলে ফিরে তার শিকার হন মোহাম্মদ আব্বাস (১৫) । তৃতীয় স্পেলে ফিরে প্রথম বলেই আবার উইকেট। এবার আউট ডেন ফক্সক্রফট। নিজের শেষ ওভারে জায়ডেন লেন্সকে ইয়র্কারে বোল্ড করে পঞ্চম উইকেটের স্বাদ পান নাহিদ।

তিনি বাদে ২টি উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম। ১টি করে উইকেট পান তাসকিন, সৌম‌্য ও রিশাদ।

নিউ জিল‌্যান্ডের হয়ে এদিন একাই লড়াই করেন নিক কেলি। ১০২ বলে ১৪ বাউন্ডারিতে ৮৩ রান করেন। এছাড়া আর কেউ বিশের ঘর পেরোতে পারেননি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ৪৮.৪ ওভারে অলআউট হয় অতিথিরা।

ছোট লক্ষ্য মানেই তানজিদ হাসান তামিমের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। এদিনও তার ব‌্যতিক্রম হলো না। ৩৩ বলে ফিফটি ছোঁয়া তানজিদ ৫৮ বলে করেছেন ৭৬ রান। ১০ চার ও ৪ ছক্কা তার নামের পাশে। বাংলাদেশের ব‌্যাটিংয়ের শুরুটা অবশ‌্য ভালো ছিল না। সাইফ হাসানকে ৮ রানে বোল্ড করেন নাথান স্মিথ। এরপর সৌম‌্যকে ৮ রানেই ফেরান ও’রুর্ক। তৃতীয় উইকেটে তানজিদ ও নাজমুল হোসেন শান্ত হাল ধরে দলকে এগিয়ে নেন। ১১০ বলে ১২০ রানের জুটি গড়েন। মনে হচ্ছিল তাদের ব্যাটে অনায়েসেই দল জয়ের বন্দরে চলে যাবে। কিন্তু তানজিদ তা হতে দিলেন কই?

বাড়তি ঝুঁকি নিয়ে শট খেলতে গিয়ে আউট হলেন ক্যাচ দিয়ে। স্পিনার লেনক্সের বল উড়াতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দেন নিকোলসের হাতে। চার থেকে পাঁচে নামা লিটন পারেননি নিজের শততম ম্যাচ রাঙিয়ে তুলতে। ১১ বলে ৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন। সবশেষ ১৮ ইনিংসে তার কোনো ফিফটি ছোঁয়া ইনিংস ছিল না। তালিকাটা আরেকটু লম্বা হলো আজ।

লিটন না পারলেও শান্ত অপেক্ষা দূর করেছেন। ১৩ ইনিংস পর ওয়ানডেতে ফিফটি পেয়েছেন। ৭১ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন ৫ চার ও ২ ছক্কায়। কিন্তু ওখানেই তাকে থেমে যেতে হয়। প্রথমে পায়ে ও পরে আঙুলে ক্র্যাম্প করায় মাঠ ছেড়ে উঠে যান বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক।

সেখান থেকে তাওহীদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজের অবিচ্ছন্ন ৪৪ বলে ৩২ রানের জুটিতে বাংলাদেশ সহজেই জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলে।

সিরিজে ১-১ এ সমতা। আগামী ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে হবে তৃতীয় ও সিরিজের ফাইনাল ম্যাচ। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচ হারের পর বাংলাদেশ সিরিজ জয়ের রেকর্ড কেবল দুইটি। ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। সবশেষ ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চট্টগ্রামেই ম্যাচ জিতেছিল বাংলাদেশ। এবারও সেই অপেক্ষাতেই মিরাজ অ্যান্ড কোং।