খেলাধুলা

৫ উইকেটের আড়ালে লুকানো নাহিদের অসাধারণ গল্প

দারুণ বোলিংয়ে নিউ জিল‌্যান্ডকে একাই ধসিয়ে দিয়েছেন নাহিদ রানা। বাংলাদেশকে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জেতানোর নায়ক তিনি। ৩২ রানে তার শিকার ৫ উইকেট। ক‌্যারিয়ারের দ্বিতীয়বার ৫ উইকেট পেয়ে উচ্ছ্বসিত এই পেসার। 

আগের ম‌্যাচে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। প্রথম ম‌্যাচে ১০ ওভারে ৬৫ রানে ১ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। আজ পাল্টে যায় সব চিত্র। বল হাতে সাঁড়াশি আক্রমণে নিউ জিল‌্যান্ডকে স্রেফ এলোমেলো করে দেন। দুদিনের বিরতিতে কীভাবে পাল্টে গেলেন?

সেই উত্তর দিতে গিয়ে নাহিদ বলেছেন, ‘‘প্রতিটি দিন বা ম‌্যাচ একজন খেলোয়াড়ের জন‌্য ভালো যায় না। আগের ম্যাচটা আমার জন‌্য ভালো দিন ছিল না। বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেছি, পারিনি। আজ চেষ্টা করেছি, পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিং করেছি। আজ কাজ হয়েছে।’’

পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম‌্যাচ আগেই ৫ উইকেট পেয়েছিলেন। পরের সিরিজেই আবার তার পকেটে ৫ উইকেট। দুইটি ফাইফারের মধ্যে নাহিদ আলাদা কোনো পার্থক‌্য খুঁজে পান না, ‘‘সবগুলোই আমার কাছে স্পেশাল এবং প্রত্যেকটা উইকেটই আমার কাছে ভালো লাগে। প্রভাব রাখতে পারি এমন পারফরম‌্যান্স করতে পেরেছি। এজন‌্য আলহামদুলিল্লাহ।’’

দ্রুত গতিতে বোলিংয়ের জন‌্য প্রয়োজন তুখোড় ফিটনেস। নাহিদের দাবি নিজেকে যত্নে রাখাতেই তীব্র গরমেও টানা জোরে বোলিং করতে পারছেন, ‘‘আল্লাহ ফিট রেখেছেন। দ্বিতীয় হচ্ছে যে, আমি আমার ফিটনেস নিয়ে সচেতন। আমি আমার অনুশীলনের বাইরে কিংবা যখন অনুশীলন চলে তখন ফিটনেস ট্রেনারের সাথে কাজ করি। তাদের সাথে কথা বলি, কিভাবে নিজের ফিটনেস উন্নতি করা যায়। যেন আমি ম‌্যাচের সময় অনুভব করি আমি বোলিং করেই যাচ্ছি। কখনো ক্লান্ত না হই। অফ টাইমে জিম, রানিং করে নিজেকে গড়ে তুলছি।’’ 

নাহিদ কতোটা ইনজুরি নিয়ে সচেতন ও নিজেকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তা আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে পাওয়া গেল, ‘‘অবশ্যই ইনজুরি কখনো বলে আসে না। আর আপনি যদি যুদ্ধে নামেন তবে গুলি তো আপনার গায়ে লাগবেই। সেই রকম, যদি ক্রিকেট খেলেন ইনজুরি আসবেই, ইনজুরিতে পড়বেন এটা স্বাভাবিক। আর যত্নে রাখার যেটা বললেন, বিসিবিতে যারা ফিজিও আছেন বা ম‌্যানেজমেন্ট আছেন তারা অবশ‌্যই দেখেন কোন ম‌্যাচ খেলবো, কয়টা ম‌্যাচ খেলবো। তারা ওভারঅল মেইনটেইন করেন আমাদের পেস বোলারদের।’’

নাহিদের আজকের বোলিংয়ে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ওভারের প্রথম বলে বেশি উইকেট পেয়েছেন। বিশেষ করে স্পেলের প্রথম ওভারের প্রথম বলে। অষ্টম ওভারে প্রথম বল হাতে নিয়ে হেনরি নিকোলসের উইকেটের দেখা পেয়েছেন। এক ওভার পর আবার নতুন ওভারে প্রথম বলে পান উইল ইয়ংয়ের উইকেট।

এরপর তৃতীয় স্পেলে ফিরে তৃতীয় বলে নেন মোহাম্মদ আব্বাসের উইকেট। চতুর্থ স্পেলে আবার প্রথম বলে উইকেট। এবার তার শিকার ডেন ফক্সক্রফট। তার পঞ্চম ও শেষ উইকেটটিও আসে বিরতি দিয়ে ফিরে ওভারের তৃতীয় বলে। 

নিজের বোলিং লক্ষ‌্য নিয়ে নাহিদ বলেছেন, ‘‘আমি সবসময় চেষ্টা করি দলের জন্য প্রভাব বিস্তারকারী পারফর্ম করা। সেটা হতে পারে একটা স্পেল, সেটা হতে পারে একটা ওভার। যেকোনো সময় হতে পারে। আমি সবসময় চেষ্টা করি যে দলকে জেতানোর জন‌্য। সেটা একটা ওভারও যদি পারি তাহলে ভালো। যদি ওই ওভার প্রভাব ফেলে আমি খুশি। আমার কাছে উইকেটের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ দলকে জেতাতে পারছি না।’’

বোলিংয়ে নাহিদ রানার প্রধানতম অস্ত্র গতি। শুরুতে নাহিদ কেবল গতি নিয়েই এসেছিলেন। এখন গতির সঙ্গে রয়েছে সুইং। আছে বাউন্সার। ভালো বোলিংয়ের পাশাপাশি এখন রান আটকানোর কাজটাও করছেন তিনি। আজ ৬০ বলের ৪৩টিই ডট দিয়েছিলেন। ২২ গজে নাহিদ কতটা জ্বালাময়ী ছিলেন তা স্পষ্ট হয়ে যায় এসব পরিসংখ্যানেই। তবে বোলিংয়ে রান আটকানো নাকি উইকেট নেওয়া কোনটা তার কাছে সহজ সেই উত্তর দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘‘পরিস্থিতি অনুযায়ী। যদি মনে হয় রান আটকালে দলের জন্য ভালো হবে কিংবা উইকেট নিলে পরিস্থিতি ভালো হবে তাহলে ওই অনুযায়ী  বোলিং করা উচিত বলে আমি মনে করি।’’

নিজের বোলিংয়ে জোর দেওয়ার পাশাপাশি এখন মানসিক লড়াইয়েও জিততে শিখেছেন নাহিদ, ‘‘আমি মনে করি পরিস্থিতি বুঝে বোলিং করলে সফলতা পাওয়া যায়। আমি চেষ্টা করি আগের ম্যাচে যে ভুলটা করছি সেটা যেন সামনের ম্যাচে না করি। ভুল থেকে শিক্ষা নেয়ার চেষ্টা করি।’’