বিনোদন

রাহুলের মৃত্যু: বেঁচে ফেরা শ্বেতার প্রশ্ন, এই দুর্ঘটনায় আমার অপরাধটা কোথায়

টিভি সিরিয়ালের শুটিং করতে গিয়ে মারা গেছেন ভারতীয় বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল ব্যানার্জি। কখন, কীভাবে মারা গেলেন তা নিয়ে নানা চর্চা এখনো চলমান। তবে দুর্ঘটনার পরপরই এবিপি আনন্দ দাবি করেছিল—সিরিয়ালের নায়িকা শ্বেতা মিশ্রাকে বাঁচাতে গিয়ে জলে ডুবে যান রাহুল। 

দুর্ঘটনার পরপরিই অভিনেত্রী শ্বেতার একটি ভিডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায়, হাসপাতালের বাইরে ফ্লোরে বসে আছেন শ্বেতা। তাকে উদভ্রান্তের মতো লাগছে। বার বার উঠতে চাইছেন, কিন্তু তাকে উঠতে দিচ্ছেন না।  এ সময় শ্বেতা একজনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমরা একসঙ্গে শুটিং করছিলাম। আমরা সমুদ্রে শুটিং করছিলাম।” তখন জানতে চাওয়া হয়, ও (রাহুল) সমুদ্রে পড়ে গেল? জবাবে শ্বেতা বলেন, “আমিও পড়ে গিয়েছিলাম। আমি ঠিক আছি।” এসময় আরেকজনকে উদ্দেশ্য করে শ্বেতা বলেন, “এই তুমি একটু দেখো রাহুলদা ঠিক আছে কি না! রাহুলদা ঠিক আছে তো? আমাকে যেতে দিচ্ছে না বাবলুদা। তোমরা রাহুলদাকে ঠিক করে তোল আমি কথা বলব।” 

রাহুলের মৃত্যুর কয়েক দিন পর অভিনেত্রীর বোন সালনি মিশ্রা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, “সকলের কাছে হাতজোড় করে প্রার্থনা করছি, দয়া করে ভিডিওটি ফরওয়ার্ড বা সার্কুলেট করা বন্ধ করুন। আর আমার বোনকে প্রয়োজনীয় স্পেস এবং সম্মানটা দিন।” 

রাহুলের মৃত্যুর পর কেটে গেছে ২৩ দিন। টলিপাড়ায় অনেক কিছু ঘটে গেছে। কিন্তু কোথাও দেখা যায়নি শ্বেতাকে। এমনকি, রাহুলের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানেও ছিলেন না এই অভিনেত্রী। অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন শ্বেতা। 

সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট নিয়ে ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে শ্বেতা মিশ্রা বলেন, “আমি কোথাও কিছু পোস্ট করিনি। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা তো দূরের কথা। ইনস্টাগ্রামে আমার প্রোফাইল রয়েছে। অন্য কোনো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আমা কোনো প্রোফাইল নেই। কোথাও কিছু পোস্ট হয়ে থাকলে, তা হয়তো আমার ফ্যান পেজ থেকে করা হয়েছে। তার দায়ও কি আমার? আমি ২৯ মার্চের পর সোশ্যালে কোথাও কিছু লিখিনি বা বলিনি।” 

রাহুলের মৃত্যুর পর শ্বেতাকে বাড়ির বাইরে বের হতে দিচ্ছে না। তা স্মরণ করে এই অভিনেত্রী বলেন, “ঘটনার পর আমাকে এক মুহূর্তের জন্য কেউ রাস্তায় বের হতে দেখেননি। আমাকে বাড়ি থেকে বের হতেই দিচ্ছে না। সবাই আমাকে অস্থির করে তুলছেন।” 

কে বা কারা শ্বেতাকে বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছে না, সে বিষয়ে কিছু বলতে নারাজ তিনি। তবে কয়েকটি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, “একজন মানুষকে এভাবে সবাই দোষারোপ করে গেলে আমি কবে আবার স্বাভাবিক হতে পারব জানি না। কিন্তু এই দুর্ঘটনায় আমার অপরাধটা কোথায়? আমি তো ক্রিমিনাল নই।” 

শ্বেতা এখনো সুস্থ হয়ে ওঠেননি। তা জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, “আমি এখনো খুব অসুস্থ। আমি জানি, আমাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হবে। কিন্তু সেটা হয়েই উঠছে না। বুঝতে পারছি, এই ঘটনা থেকে বেরিয়ে আসতে আমার অনেকটা সময় লাগবে। এর মাঝে ভেবেছি, এভাবে বিষয়গুলো চলতে থাকলে হয়তো ক’দিনের মধ্যে শহর ছেড়ে চলেই যাব। ক্রমাগত আক্রমণে পুরো বিষয়টা আমার কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছে।”