বরগুনার তালতলী উপজেলার নয়া ভাইজোড়া বিএনএ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র বিতরণে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের নয়া ভাইজোড়া বিএনএ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় ৬৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। সরকারি নিয়মানুযায়ী প্রবেশপত্র বিতরণে টাকা নেওয়ার বিধান না থাকলেও প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা আদায় করেছেন। টাকা দিতে দেরি হলে প্রবেশপত্র দিতে গড়িমসি করার অভিযোগও করেছে শিক্ষার্থীরা।
জান্নাতি, মাহফুজা, হাফসা, সজল চন্দ্র দাস, সালাউদ্দিনসহ কয়েকজন পরীক্ষার্থী বলেন, পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় তারা সব বকেয়া পরিশোধ করেছেন। আবার প্রবেশপত্র নিতে গেলে এক হাজার টাকা দিতে হয়েছে। টাকা দিতে দেরি হলে প্রবেশপত্র আটকে রাখেন।
প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘‘পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র বিতরণের জন্য ৫০০ টাকা নিয়েছি। এছাড়াও যদি টাকা দেয়, সেটা অন্য শিক্ষকদের বকেয়া কোচিং ক্লাসের জন্য দিয়েছে।’’
তালতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা টিপু সুলতান বলেন, ‘‘পরীক্ষা কেন্দ্রের কিছু খরচ আছে তো। আমি এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে যোগাযোগ করেছি। তারা বলেছেন, তারা এক হাজার টাকা নেইনি, নিয়েছি ৫০০ টাকা।’’
তিনি আরো বলেন, সকল শিক্ষকরা মিলে পরীক্ষার্থীদের তিন মাস কোচিং করিয়েছেন। এ জন্য শিক্ষার্থীদের তিন হাজার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও পরে দেয়নি। এরপর প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে পরীক্ষার্থীরা আলোচনা করে ৫০০ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষকে তলব করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের কথা শুনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।