জাতীয়

ইসির কাছে মোবাইল চান মাঠ কর্মকর্তারা

মাঠপর্যায়ে অফিসিয়াল যোগাযোগ নির্বিঘ্ন রাখতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা মোবাইল ফোন সরবরাহের প্রস্তাব উঠেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভায় অফিসিয়াল সিম সচল রাখার নির্দেশনা দেওয়া হলে কর্মকর্তারা এই দাবি তোলেন। বিষয়টি বর্তমানে কমিশনের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

ইসি সূত্র জানা যায়, কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মাঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে আগেই অফিসিয়াল সিম বিতরণ করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে এসব সিম নিয়মিত সক্রিয় রাখা যাচ্ছে না। অধিকাংশ কর্মকর্তা ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিক সিম ব্যবহার করায় অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

সভায় কর্মকর্তারা জানান, পৃথক অফিসিয়াল ডিভাইস না থাকায় অফিসিয়াল সিম সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্যক্তিগত ফোনে একাধিক সিম ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা, চার্জিং জটিলতা এবং ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক কল একসঙ্গে পরিচালনার কারণে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটে। পাশাপাশি প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক সেবাগ্রহীতার কল আসায় ব্যক্তিগত নম্বর ব্যবহারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে এবং গোপনীয়তাও নষ্ট হচ্ছে।

তাদের মতে, প্রতি কর্মকর্তাকে একটি করে অফিসিয়াল মোবাইল ফোন সরবরাহ করা হলে সরকারি ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ আলাদা রাখা সম্ভব হবে। এতে জরুরি নির্দেশনা দ্রুত পৌঁছানো, ফলোআপ নিশ্চিত করা এবং মাঠপর্যায়ের কাজের গতি বাড়ানো সহজ হবে। একই সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

সভায় প্রস্তাব করা হয়, আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্য সিমের পাশাপাশি একটি করে মোবাইল ফোন সরবরাহের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এ বিষয়ে ব্যয়, ব্যবহারযোগ্যতা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যাচাই করে সুপারিশ দিতে সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সেবা শাখা সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবটি বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে এবং এটি সরকারি বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “কর্মকর্তাদের জন্য মোবাইল ফোন সরবরাহের প্রস্তাবটি নীতিমালার আলোকে যাচাই করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

এর আগে নির্বাচনি কার্যক্রম গতিশীল করতে ইসি প্রায় ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪২ হাজার ২০০টি ট্যাব সরবরাহ করেছিল। তবে নিম্নমান ও ত্রুটির কারণে এসব ডিভাইস প্রত্যাশিত সুফল দিতে পারেনি। সরবরাহের পর থেকেই অনেক ট্যাব অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং তিন বছরের গ্যারান্টি শেষে অধিকাংশই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যায়।

সভায় মোবাইল ফোন সংক্রান্ত আলোচনার পাশাপাশি আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ও নির্দেশনা উঠে আসে। এর মধ্যে রয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্ত করা যায় না এমন ব্যক্তিদের মোবাইল সিম কার্ড ক্রয়ের ক্ষেত্রে অনাপত্তি সনদ (এনওসি) দেওয়ার ক্ষমতা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের হাতে দেওয়ার দাবি। বর্তমানে এই এনওসি সনদ নিতে নাগরিকদের সরাসরি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) উইংয়ে যেতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ হওয়ায় ভোগান্তির কারণ হচ্ছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া, এনআইডির সার্ভার কপি সরবরাহ কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবিও তোলা হয়। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, তথ্য-উপাত্ত সরবরাহের ফি অনলাইনে পরিশোধের মাধ্যমে সার্ভার কপি দেওয়া গেলে নাগরিকদের সেবা প্রক্রিয়া আরো সহজ হবে। এ কারণে মাঠপর্যায়ে পুনরায় সার্ভার কপিতে প্রবেশাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে এনআইডির সার্ভার কপির প্রয়োজন হয়। আগে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই সুবিধা থাকলেও অনিয়মের অভিযোগে পরে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, সেবার জট কমাতে সময়সীমাও নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত জমা হওয়া জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন সংক্রান্ত সব আবেদন আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।