লাইফস্টাইল

শিশুর স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ১১টি পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন

স্মৃতি সাধারণত দুই ভাগে বিভক্ত- স্বল্পমেয়াদি স্মৃতি এবং দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি। স্বল্পমেয়াদি স্মৃতি শিক্ষার্থীদের নতুন তথ্য বুঝতে ও মনে রাখতে সাহায্য করে, যাতে তারা তাৎক্ষণিক কাজ সম্পন্ন করতে পারে। এই তথ্য ধীরে ধীরে দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতিতে স্থানান্তরিত হয়, যা একটি বিষয় সম্পর্কে গভীর বোঝাপড়া তৈরি করতে সহায়তা করে।

যেসব শিক্ষার্থীর স্মৃতিশক্তি দুর্বল, তারা সাধারণত তথ্য সংগঠিত করতে এবং বিষয়ের অর্থপূর্ণ ধারণা গড়ে তুলতে সমস্যায় পড়ে। ফলে তারা ক্লাসে পিছিয়ে পড়তে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে পড়াশোনায় সমস্যা দেখা দেয়।কিছু কার্যকর কৌশল ব্যবহার করে শিশুদের স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি উন্নত করা সম্ভব।

১. প্রশ্ন করতে উৎসাহ প্রদান কোনো বিষয় বুঝতে পারা সেটি মনে রাখার প্রথম ধাপ। প্রশ্ন করতে উৎসাহ দিলে শিশুর গভীর বোঝাপড়া তৈরি হয় এবং তার চিন্তাশক্তি ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ে।

২. ছড়া ও গান আকারে পড়ান পড়ার বিষয়কে ছড়া, কবিতা বা গানের আকারে তৈরি করতে সাহায্য করুন। আমাদের মস্তিষ্ক ছন্দ ও সুর সহজে মনে রাখতে পারে।

৩. শেখাকে আনন্দময় করুন লাইব্রেরি, জাদুঘর বা আর্ট গ্যালারিতে নিয়ে যান। আগ্রহ তৈরি হলে শেখা বিষয় সহজে মনে থাকে।

৪. সক্রিয়ভাবে শেখার সুযোগ তৈরি করে দিন বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করুন এবং শিশুর মতামত জানতে চান। এতে তথ্য মনে রাখার ক্ষমতা বাড়ে এবং চিন্তাশক্তি উন্নত হয়।

৫. ভিজ্যুয়াল উপকরণ ব্যবহার করুন ফ্ল্যাশকার্ড, ছবি বা চার্ট ব্যবহার করুন। এগুলো নতুন তথ্য মনে রাখতে সাহায্য করে।

৬. নিজের উদাহরণ তৈরি করতে বলুন শিশুকে তার নিজের অভিজ্ঞতার সাথে বিষয়টি যুক্ত করতে বলুন। এতে বিষয়টি সহজে বোঝা ও মনে রাখা যায়।

৭. মাইন্ড ম্যাপ তৈরি করুন বিভিন্ন ধারণার মধ্যে সম্পর্ক দেখাতে মাইন্ড ম্যাপ তৈরি করুন। এটি শেখার প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করে।

৮. গুরুত্বপূর্ণ শব্দের তালিকা তৈরি করুন মূল শব্দগুলো তালিকাভুক্ত করে তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করুন। এতে মনে রাখা সহজ হয়।

৯. শেখানো শেখান শিশুকে বলুন সে যা শিখেছে তা আপনাকে বা অন্য কাউকে বুঝিয়ে বলতে। এতে তার স্মৃতি আরও মজবুত হয়।

১০. সব ইন্দ্রিয় ব্যবহার করুন দেখা, শোনা ও স্পর্শ—সব ইন্দ্রিয় ব্যবহার করে শেখান। যেমন: জোরে পড়া, আলোচনা করা, বাস্তব উপকরণ ব্যবহার করা।

১১. তথ্যকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করুন একসাথে বেশি তথ্য না দিয়ে ছোট ছোট অংশে শেখান। এতে বোঝা ও মনে রাখা সহজ হয়।

সূত্র: অক্সফোর্ড লার্নিং