আন্তর্জাতিক

রাত পোহালেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ৭টায় শুরু হবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। কোনো বিরতি ছাড়াই ভোট গ্রহণ চলবে এবং তা শেষ হবে সন্ধ্যা ৬টায়। 

প্রথম দফায় মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ কোটি ৮৪ লাখ, নারী ভোটার ১ কোটি ৭৫ লাখের মতো এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪৬৫ জন। 

আসন্ন নির্বাচনে একদিকে যেমন মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছে, তেমনি বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিআইএম, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ), আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি) সহ অন্য দলগুলোও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। অবশ্য বেশিরভাগ আসনেই লড়াই সীমাবদ্ধ থাকবে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে। 

প্রথম দফায় ১ হাজার ৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের উল্লেখযোগ্য প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদায়ন গুহ (দিনহাটা), সেচমন্ত্রী মানুষ ভূঁইয়া (সবং), শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক (আসানসোল উত্তর), এশিয়ান গেমসে স্বর্ণজয়ী অ্যাটলিট স্বপ্না বর্মন (রাজগঞ্জ), সাবেক মন্ত্রী গৌতম দেব (শিলিগুড়ি)। 

তফসিল ঘোষণার পর থেকে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই আসনগুলোতে যেমন প্রতিটি দলের প্রার্থীরা জনসংযোগ করেছেন, তেমনি প্রার্থীদের সমর্থনে তারকা প্রচারকরাও প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। 

বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (নন্দীগ্রাম), দিলীপ ঘোষ (খড়গপুর সদর), সাবেক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক (মাথাভাঙ্গা), সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার অশোক দিন্দা (ময়না), ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পাল (আসানসোল দক্ষিণ)। 

কংগ্রেসের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- অধীর রঞ্জন চৌধুরী (বহরমপুর), মৌসম বেনজির নুর (মালতিপুর), আলী ইমরান রামজ (চাকুলিয়া)। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর (রেজিনগর ও নওদা)। 

নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ২ হাজার ৪০০ কোম্পানি (২ লাখ ৪০ হাজার সদস্য) কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়ন। রাজ্যের নির্বাচনের ইতিহাসে এই প্রথম এত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য  মোতায়েন করা হচ্ছে। 

প্রথম দফায় ১৫২ আসনের জন্য মোট ৪৪ হাজার ৩৭৮ টি ভোট গ্রহণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এই ভোট কেন্দ্রগুলোর ভেতরে এবং বাইরে লাগানো থাকবে অন্তত দুটি ক্যামেরা এবং থাকবে ওয়েবকাস্টিং সফটওয়্যার। প্রতিটি বুথ থেকে ওয়েবকাস্ট করা হবে। তার মাধ্যমেই কন্ট্রোল রুমে থাকা নির্বাচনী পর্যবেক্ষণের কাজে নিযুক্ত কর্মকর্তারা সরাসরি ওই বুথ থেকেই ভিডিও দেখতে পারবেন। কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে সতর্ক করার জন্য কাজে লাগানো হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। পাশাপাশি ২ হাজার ১৯৩ টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) মোতায়েন রাখা হচ্ছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোট চলাকালে বুথ দখল বা অশান্তির খবর পাওয়া মাত্রই, এই বিশেষ বাহিনীকে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হবে। সবচেয়ে বেশি ২৮৮ টি কিউআরটি থাকবে মুর্শিদাবাদ জেলায়। 

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অশান্তি ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও করা নজরদারি থাকছে কমিশনের। এআই-এর মাধ্যমে তৈরি করা ভিডিও পোস্ট করে কোন রকম গুজব, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগে তৎক্ষণাৎ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও কড়াবার্তা দিয়ে রেখেছে নির্বাচন কমিশন। 

পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফায় ভোট আগামী ২৯ এপ্রিল।