ক্যাম্পাস

বহিরাগতদের বিরুদ্ধে চবি শাটলে নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্থার অভিযোগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাটল ট্রেনে উঠে বিভিন্ন দলীয় স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কয়েকজন বহিরাগত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগও উঠেছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহরগামী শাটল ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাটলটি পলিটেকনিক স্টপেজে থামলে কয়েকজন শিক্ষার্থী ট্রেনে ওঠেন। তারা এক নারী শিক্ষার্থীর পাশে বসতে চাইলে তিনি তাদের বহিরাগত উল্লেখ করে বসতে নিষেধ করেন। এরপর তারা ওই শিক্ষার্থীর পাশে জড়ো হয়ে উচ্চবাচ্য করতে থাকেন। পরিস্থিতি দেখে ওই শিক্ষার্থী ভিডিও ধারণ শুরু করলে তার ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানান।

পরে ওই নারী শিক্ষার্থীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিচ্ছেন। তাদের অনেকের গায়ে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পোশাক ছিল। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং তিনি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী রাকিব হোসাইন বলেন, “পলিটেকনিকের কয়েকজন শিক্ষার্থী ট্রেনে উঠে এক শিক্ষার্থীর পাশে বসতে চাইলে তিনি আপত্তি জানান। পরে তারা তাকে ঘিরে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি ও চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। তিনি ভিডিও ধারণ করতে গেলে ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।”

তিনি আরো বলেন, “অন্যান্য শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে কয়েকজন দুঃখ প্রকাশ করলেও অন্যরা স্লোগান দিতে থাকে এবং উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়।”

চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ইসহাক ভূঁঞা বলেন, “একজন নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। বিষয়টি অভিযোগ আকারে প্রক্টরকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।”

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, “তাদের একজন আমার পাশে বসতে চাইলে আমি আপত্তি জানাই। পরে তারা আমার পাশে জড়ো হয়ে চিৎকার করতে থাকে। আমি ভিডিও করতে গেলে তারা ফোন নেওয়ার চেষ্টা করে এবং পরে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, “বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। পলিটেকনিক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে।”