আন্তর্জাতিক

কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তারের নির্দেশের খবর ভুয়া

রাত পেরোলেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি একেবারে শেষ পর্যায়ে। এর মধ্যেই কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেওয়া দিয়েছে আদালত। নির্দেশ মোতাবেক বুধবার সকালেই শ্রীজাতকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। 

এই খবর নিয়ে তোলপাড় শুরু হতেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলে নির্বাচন কমিশন। তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এটা একটা গুজব। এমন কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। 

কমিশনের পক্ষ থেকে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত বলেন, “এটা একটা গুজব। কেউ এটা ছড়িয়ে দিয়েছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব। কমিশনের তরফে এমন কোনো পরোয়ানা জারি করা হয়নি। আমরা কোর্টকেও এমন কিছু জানাইনি।”

নির্বাচনের প্রাক্কালে একজন বিশিষ্ট কবির বিরুদ্ধে এই আইনি তৎপরতা নিয়ে বুধবার সকাল থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হয় বিতর্ক ও নিন্দার ঝড়। শোনা যায়, শ্রীজাতর একটি বিতর্কিত কবিতার প্রেক্ষিতে বেশ কয়েক বছর আগে মামলা দায়ের হয়েছিল। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী, যাদের বিরুদ্ধে পুরনো মামলা বা পরোয়ানা রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই সূত্র ধরেই এই গ্রেপ্তারের নির্দেশ। 

এই প্রসঙ্গে শ্রীজাত নিজেও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। 

সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “এই বিষয়ে আমার সঙ্গে কেউ কোনোরকম যোগাযোগ করেনি। আমিও সংবাদমাধ্যম থেকেই প্রথম বিষয়টি জানতে পেরেছি।”

শ্রীজাতা জানান, কোনো সরকারি নথি বা আইনি নোটিস তার হাতে আসেনি, তাই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা তার পক্ষে সম্ভব নয়।

বৃহস্পতিবার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা। আর ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তারই ফল হিসেবে এই পদক্ষেপ, বলে প্রাথমিকভাবে যে খবর আগুনের মত ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই গুজবে বেলা বাড়তেই জল ঢেলে দিল কমিশন। 

যদিও নির্বাচন চলাকালীন এত সহজে এত বড় ইস্যু হাতছাড়া করতে চাননি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টা নিয়েই আমডাঙার জনসভায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

তিনি জানান, আজ সকালেই শ্রীজাতকে নিয়ে একাধিক মেসেজ এসেছে তার ফোনে। এমনকী তিনি পেয়েছেন ফোন। এমন পরিস্থিতিতে তিনি নিজেই শ্রীজাতকে ফোন করেন। তারপরই তিনি এই ঘটনার জন্য় কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে একযোগে আক্রমণ করেন।    

প্রসঙ্গত, কবি  শ্রীজাতের বিরুদ্ধে মামলার সূত্রপাত ২০১৭ সালের একটি কবিতা থেকে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যোগী আদিত্যনাথ-এর শপথগ্রহণের পর শ্রীজাত ফেসবুকে ‘অভিশাপ’ নামে একটি কবিতা পোস্ট করেছিলেন। সেই কবিতার শেষাংশে ব্যবহৃত কিছু শব্দ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে,কবিতায় হিন্দু ধর্মের প্রতীক ‘ত্রিশূল’ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে, শিলিগুড়ির এক ছাত্র সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ দায়ের করেন। ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৫এ ধারা (ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত) এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৭ ধারায় মামলা রুজু হয়। সেই সময় কবির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। দীর্ঘদিন মামলাটি ঝুলে থাকার পর ২০২২ সালে কলকাতা হাইকোর্ট তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপরই মামলায় নতুন করে নড়াচড়া শুরু হয়।