নোয়াখালীর উপকূলীয় লবণাক্ত জমিতে দেশীয় উদ্ভাবিত সেলেনিয়াম, সিলিকন এবং জিংক সমৃদ্ধ ন্যানোপার্টিকেল ব্যবহারে সয়াবিনের উৎপাদন বেড়েছে। নতুন এ সম্ভাবনা বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের উপকূলীয় লবণাক্ত জমিতে সকল ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি কমে আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে নোয়াখালী সদর উপজেলার দক্ষিণ শুল্লকিয়া গ্রামের একটি সয়াবিন মাঠ পরিদর্শন শেষে কৃষকদের অবহিতকরণ সভায় এসব তথ্য জানান শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ও প্রকল্পটির প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর অধ্যাপক ডা. মীর্জা হাছানুজ্জামান।
তিনি জানান, ক্ষুদ্র কণাগুলোকে পানিতে মিশিয়ে লবণাক্ত জমিতে চাষ করা সয়াবিন গাছে স্প্রে করলেই ফলন বৃদ্ধি পাবে। যেখানে মুটেও গাছ গজানো কিংবা ফল আসার কথা নয় এ স্প্রের মাধ্যমে গাছ গজাবে এবং অনেক বেশি ফলন হবে। ন্যানোপার্টিকেলে রয়েছে সেলেনিয়াম, সিলিকন এবং জিংক। ফলে গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পাবে এবং স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত পক্ষে তিন গুণ ফলন বৃদ্ধি পাবে। সফল এ গবেষণা গত দুই বছর ধরে চালানো হয়েছে। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে এবং পরবর্তীতে মাঠে চালানো হয়। সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ এবং দেশের বেসরকারি উদ্যোক্তারা এ উদ্ভাবনকে মাঠ পর্যায়ে নিয়ে গেলে ভবিষ্যতে কোনো লবণাক্ত জমি আর খালি থাকবে না।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের কো-ইনভেস্টিগেটর ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব আলম, শেরেবাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিকালচার বোটানি বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুন্নাহার, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আমীর ফয়সালসহ শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন গবেষণা ফেলো।