ভারত সরকার বেশ কটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আয়োজন করেছে। অন্যান্য রাজ্যের মতো বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রথম পর্বে পশ্চিমবঙ্গের ১৫২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছে। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুরের কিছু আসন, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলার সবকটি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রথম দফাতেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বলিউডের প্রখ্যাত প্লেব্যাক গায়ক অরিজিৎ সিং। পেশাগত কারণে কয়েক বছর ধরে মুম্বাইয়ের বাসিন্দা হলেও, নিজের স্থায়ী ঠিকানা বদলাননি তিনি। বরাবরের মতো এবারো নিজের নাগরিক দায়িত্ব পালন করলেন। স্ত্রী কোয়েলকে সঙ্গে নিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলার ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত জিয়াগঞ্জের প্রীতম সিং প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন এই তারকা।
অরিজিৎ সিং কতটা মাটির মানুষ, তা বলাবাহুল্য। আজও সাদামাটা পোশাকে ভোটকেন্দ্রে হাজির হন এই গায়ক। নীল রঙের কুর্তা আর ডেনিম প্যান্ট পরে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। তার স্ত্রী কোয়েলকে দেখা যায় চুড়িদারে। ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসার পর, ক্যামেরার সামনে পোজ দিতেও কোনোরকম আপত্তি করেননি তারা। বরং পাপারাজ্জিরা কিছু বলার অনুরোধ করলে, অরিজিৎ সিং বলেন—“আমি এখন ভোটের মধ্যে কী বলব! লোকে ভাববে আমি নেতা হতে চাইছি!” এসব কথা বলতে গিয়ে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়েন এই সংগীতশিল্পী।
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ থেকে শুরু হয়েছিল অরিজিতের সংগীতযাত্রা। আজ তার অনুরাগী ছড়িয়ে আছে বিশ্বজুড়ে। মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই তিনি ভারতের অন্যতম আলোচিত ও জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী।
২০০৫ সালে ভারতের একটি জনপ্রিয় রিয়েলিটি শোয়ের মাধ্যমে নজরে আসেন অরিজিৎ সিং। এরপর কম্পোজার শংকর-এহসান-লয় এবং প্রীতমের সহকারী হিসেবে ছয় বছর কাজ করেন। ২০০৭ সালে সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘সাওয়ারিয়া’ সিনেমার জন্য ‘ইউ শবনামি’ গানটি রেকর্ড করলেও সেটি সিনেমায় ব্যবহার করা হয়নি।
২০১১ সালে ‘মার্ডার-টু’ সিনেমায় ‘ফির মহব্বত’ গানে প্রথম প্লেব্যাক করেন তিনি। তারপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ২০১৩ সালে ‘আশিকি টু’ সিনেমার ‘তুম হি হো’ গান গেয়ে তারকাখ্যাতির চূড়ায় পৌঁছে যান অরিজিৎ।