ছকভাঙা অভিনেত্রী, সাহসী বললেও অত্যুক্তি হবে না। বরাবরই নিজের নিয়মে চলেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব একটা রাখঢাক করতে দেখা যায়নি তাকে। বলছি, বলিউড অভিনেত্রী কালকি কোচলিনের কথা। কয়েক দিন আগে সোহা আলী খানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়ের কথা ব্যাখ্যা করে ফের আলোচনায় উঠে এসেছেন এই অভিনেত্রী।
কালকি কোচলিন ব্যক্তিগত জীবনে দক্ষিণী সিনেমার তারকা অভিনেতা ও পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। পরবর্তীতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। এ সম্পর্ক ভাঙার পর তার জীবনে শুরু হয় কালো অধ্যায়। প্রেমের ব্যথা কীভাবে তার শরীর, মনকে প্রভাবিত করেছিল, তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন এই আলাপচারিতায়।
সম্পর্ক ভাঙার পর ইনসমনিয়ায় বা নিদ্রাহীন রোগে ভোগেন কালকি কোচলিন। তিনি বলেন, “আমার হৃদয় ভাঙার পর রাতের পর রাত না ঘুমিয়ে কাটিয়েছি। মনে হয়, রাতগুলো আর কাটবে না। মনে হতো আমি শেষ হয়ে গিয়েছি। ঘুম ছিল অধরা। যদিও ভোররাতের দিকে ঘুমিয়ে পড়তাম, সে ঘুম দীর্ঘস্থায়ী হতো না। আবার ভোরবেলায় ঘুম ভেঙে যেত।”
খানিকটা ব্যাখ্যা করে কালকি কোচলিন বলেন, “সেই সময় নিজেকে শান্ত রাখার জন্য গিটার বাজাতাম। নিজেকে নানারকমভাবে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করতাম। কারণ ঘুমাতে যাওয়ার কোনো উপায় ছিল না আমার। আমি বুঝতে পেরেছিলাম, ঘটনাটি আমাকে মানসিকভাবে কতটা ধাক্কা দিয়েছে।”
ঘুমের ব্যাঘাতের কারণে শারীরিকভাবে দিন দিন ভেঙে পড়েন অভিনেত্রী কালকি। তার মতে, “অনিদ্রা আমার জীবনযাপনে ভীষণভাবে প্রভাব ফেলেছিল। আমি কাজেও মন দিতে পারছিলাম না। অবসাদে ভুগছিলাম। একদিন শুটিং সেটে গিয়ে স্বপ্ন এবং বাস্তবতার মধ্যে কোনো পার্থক্য করতে পারছিলাম না।”
শুটিং সেটের ঘটনা বর্ণনা করে কালকি কোচলিন বলেন, “একদিন শুটিং সেটে গিয়ে বুঝতে পারিনি স্বপ্ন দেখছি, নাকি জেগে আছি। আমি সত্যিই অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। ভাবছিলাম, এটা সত্যিই হচ্ছে, নাকি এখেনো ঘুমাচ্ছি। প্রায় চারমাস ধরে এরকম পরিস্থিতি মধ্যে ছিলাম।”
কালকি কোচলিনের বাবা-মা ফরাসি। লন্ডনের গোল্ডস্মিথ ইউনিভার্সিটি থেকে ড্রামা ও থিয়েটার আর্টস বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি নেন এই অভিনেত্রী। ২০০৯ সালে বলিউডে পা রাখেন। অনুরাগ কাশ্যপের ‘দেব ডি’ সিনেমার মাধ্যমে বি-টাউনে তার অভিষেক ঘটে। প্রথম সিনেমা মুক্তির পরই বাজিমাত করেন। ফিল্মফেয়ারে সেরা সহ-অভিনেত্রীর পুরস্কারও লাভ করেন তিনি।
এরপর ধারাবাহিকভাবে সিনেমা উপহার দিয়ে দর্শকদের মন কাড়েন কালকি কোচলিন। ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’, ‘দ্যাট গার্ল ইন ইয়েলো বুটস’, ‘ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’ সিনেমায় অনবদ্য কালকি। অভিনেত্রীর সাফল্যের ঝুলিতে রয়েছে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বিশেষ জুরি অ্যাওয়ার্ড। ‘মার্গারিটা উইথ আ স্ট্র’ সিনেমায় সকলকে কার্যত অবাক করে দেন এই অভিনেত্রী। একাধিক ওয়েব সিরিজে অনবদ্য অভিনয় করেছেন কালকি। ‘মেড ইন হেভেন’, ‘সেক্রেড গেম টু’-তে তার অভিনয় ছিল নজরকাড়া।
দুই বছর প্রেম করার পর ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল বিয়ে করেন কালকি-অনুরাগ। ২০১৩ সালে কালকি-অনুরাগ যৌথভাবে ঘোষণা করেন আলাদা থাকছেন তারা। ২০১৫ সালে এই জুটির বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। অভিনেত্রী হুমা কুরেশির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন অনুরাগ। হুমা কুরেশির কারণে কালকির সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটেছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। যদিও হুমা-অনুরাগের সম্পর্কও পরিণয় পায়নি।
অনুরাগের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর ডেড সি-তে যাওয়ার পথে এক পেট্রোল পাম্পে গাই হর্ষবর্গের সঙ্গে পরিচয় হয় কালকির। এরপর সময়ের সঙ্গে তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গাই হর্ষবর্গ একজন ইসরায়েলি মিউজিশিয়ান। ২০২০ সালে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন কালকি। এ সন্তানের বাবা গাই হর্ষবর্গ। বিয়ের আগে মা হয়ে দারুণ সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন এই অভিনেত্রী।