জাতীয়

নগর পরিবহনে ভাড়া দ্বিগুণ আদায়ের অভিযোগ

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরসহ আন্তঃজেলা রুটে বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে, বাস্তবে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। 

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ও নগর পরিবহনে ঘুরে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়। 

যাত্রীরা জানান, নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার পর থেকে অনেক বাসে আগের তুলনায় ১৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। নগর পরিবহনে নতুন হার অনুযায়ী ভাড়া বাড়ার কথা সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ টাকার মধ্যে।

গাবতলী থেকে সদরঘাটগামী যাত্রী মনোয়ার হোসেন বলেন, “আগে যেখানে ৪০ টাকা ভাড়া দিতাম, এখন সেখানে ৬০ টাকা দাবি করেছে। বলছে তেলের দাম বেড়েছে, তাই ভাড়াও বেড়েছে। বাড়া তো এত বাড়েনি। শেষ পর্যন্ত ৫০ টাকা দিয়ে আসতে হলো।"

সদরঘাট থেকে বিমানবন্দর রুটের যাত্রী সানজু ইসলাম বলেন, “নির্ধারিত ভাড়ার কোনো হিসাব নেই। যার যা ইচ্ছা নিচ্ছে। প্রতিবাদ করলে তর্কে জড়িয়ে পড়তে হয়।”

একই অভিযোগ করেন উত্তরা থেকে গুলিস্তানগামী এক যাত্রী। তিনি জানান, ভাড়া বাড়বে এটা বুঝি, কিন্তু হুট করে ২০ টাকা বাড়িয়ে নিচ্ছে। কোনো তালিকা বা নির্দেশনাও দেখায় না বাসচালক ও সুপারভাইজাররা।

কয়েকটি বাসের সুপারভাইজার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেশি ভাড়া নিচ্ছেন না, বরং মালিক সমিতির পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা না পাওয়ায় আগের ভাড়াই যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বাসের হেলপার জানান, তার কাছে এখনো নতুন ভাড়ার তালিকা আসেনি। মালিকরা কিছু বলেননি। তাই আগের মতোই ভাড়া নিচ্ছেন। কেউ বেশি নিলে সেটা আলাদা বিষয়।

আরেকজন হেলপার দাবি করেন, যাত্রীরা অনেক সময় ভুল বুঝে বেশি বলছেন।

যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “ভাড়া বৃদ্ধির পরপরই কার্যকর মনিটরিং না থাকলে এ ধরনের অনিয়ম বাড়ে। তাই নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা দ্রুত দৃশ্যমানভাবে বাসে টানানো এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করতে হবে।”

সরকার সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দাম বৃদ্ধির প্রভাবেই বাস ভাড়া সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।