সারা বাংলা

ঝালকাঠিতে লোহার পুল ভেঙে খালে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ২ ইউনিয়ন

ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলায় লেবুবুনিয়া খালের ওপর নির্মিত একটি লোহার পুল ভেঙে খালে পড়ে যাওয়ায় দুই ইউনিয়নের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে ইউনিয়ন দুটির কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এখন তাদের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, কাঠালিয়া সদর ইউনিয়নের আমরিবুনিয়া গ্রামের মায়ারাম হিন্দু পাড়ার লেবুবুনিয়া খালের ওপর নির্মিত লোহার পুলটি বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ভেঙে যায়। এই পুলটি আমরিবুনিয়ার ৮নং ওয়ার্ড (মায়ারাম) ও আমুয়া ইউনিয়নের বাশবুনিয়ার ৯নং ওয়ার্ডের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করত।

পুলটি ভেঙে যাওয়ার ফলে আমরিবুনিয়া, মশাবুনিয়া, চিংড়াখালীসহ কাঠালিয়া সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা এবং আমুয়া ইউনিয়নের বাশবুনিয়া, তালতলা ও ছোনাউটাসহ আশপাশের গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। একই সঙ্গে খালপথে নৌযান চলাচলও বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বিপ্লব চন্দ্র মিস্ত্রি জানান, পুলটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। বারবার সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, “পুলটি ভেঙে যাওয়ায় আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। হাটবাজারে যাওয়া, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত এবং রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এখন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।”

গাছ ব্যবসায়ী সোনা মিয়া বলেন, “এই খালপথে নিয়মিত কাঠ পরিবহন করে ইনদেহাট বাজারে বিক্রি করতাম। পুলটি ভেঙে পড়ায় এখন আর সেই কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না।”

আমুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নকিরুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত পুলটি অপসারণ করে নতুন একটি সেতু নির্মাণ করা হবে।”

কাঠালিয়া সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, “লোহার পুলটি দীর্ঘদিন ধরে নড়বড়ে অবস্থায় ছিল। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।”

কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মকবুল হোসেন বলেন, “একটি লোহার পুলটি ভেঙে খালে পড়ে যাওয়ায় দুই ইউনিয়নের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। দ্রুত এটি মেরামত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।”