ইরানের সাথে বর্তমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা নতুন পরিকল্পনা তৈরি করছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিবেচনাধীন বিভিন্ন ধরনের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে যে বিকল্পগুলো রয়েছে, তার মধ্যে হরমুজ প্রণালি, দক্ষিণ আরব উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের আশেপাশে ইরানের সক্ষমতার ওপর বিশেষ ‘ডায়নামিক টার্গেটিং’ বা গতিশীল লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অন্তর্ভুক্ত। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা ছোট দ্রুতগামী আক্রমণকারী নৌকা, মাইন স্থাপনকারী জাহাজ এবং অন্যান্য অপ্রতিসম সম্পদের ওপর সম্ভাব্য হামলার কথা বর্ণনা করেছেন। এগুলো তেহরানকে কার্যকরভাবে ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলো বন্ধ করে দিতে এবং সেগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে সাহায্য করেছে।
হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যা মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি কমানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি মার্কিন হামলা স্থগিত রাখা সত্ত্বেও এটি ঘটেছে।
যদিও সামরিক বাহিনী ইরানের নৌবাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, তবে প্রথম মাসের বোমাবর্ষণের বেশিরভাগই প্রণালি থেকে দূরে অবস্থিত লক্ষ্যবস্তুতে কেন্দ্রীভূত ছিল। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী কৌশলগত জলপথগুলোর চারপাশে আরো অনেক বেশি কেন্দ্রীভূত বোমাবর্ষণ অভিযান চালানো হবে।
সিএনএন এর আগে জানিয়েছিল, ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশ অক্ষত রয়েছে। ইরানের কাছে অসংখ্য ছোট নৌকাও রয়েছে, যা জাহাজে হামলা চালানোর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। বিষয়টি প্রণালিটি খোলার মার্কিন প্রচেষ্টাকে আরো জটিল করে তুলছে।
সিএনএনকে একজন ঊর্ধ্বতন শিপিং ব্রোকারসহ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শুধুমাত্র প্রণালির চারপাশে সামরিক হামলা চালিয়ে জলপথটি অবিলম্বে পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা কম।
সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র বলেছে, “যদি না আপনি দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণ করতে পারেন যে ইরানের শতভাগ সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে, অথবা প্রায় নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন যে যুক্তরাষ্ট্র তার সক্ষমতা দিয়ে ঝুঁকিটি প্রশমিত করতে পারবে, তাহলে বিষয়টি নির্ভর করবে(ট্রাম্প) কতটা মরিয়া হয়ে ঝুঁকিটি গ্রহণ করতে এবং প্রণালি দিয়ে জাহাজ পাঠানো শুরু করতে ইচ্ছুক তার উপর।”
সূত্রগুলো সিএনএনকে জানিয়েছে, ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে বাধ্য করার প্রচেষ্টায় মার্কিন সামরিক বাহিনী জ্বালানি স্থাপনাসহ দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য ও অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর ট্রাম্পের পূর্ববর্তী হুমকিও বাস্তবায়ন করতে পারে। ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধের কোনো কূটনৈতিক সমাধান না হলে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় যুদ্ধ অভিযান শুরু করবে।