সারা বাংলা

গাজীপুরে আঙ্গুর চাষে নতুন সম্ভাবনা

দেশের মাটিতে বিদেশি ফল আঙ্গুর চাষ, যা একসময় কেবল কল্পনা ছিল, তা এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে গাজীপুরের শ্রীপুরে। অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা সদস্যের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে একটি দৃষ্টিনন্দন আঙ্গুর বাগান, যেখানে প্রথম বছরেই মিলেছে আশাব্যঞ্জক ফলন।

উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের চিনাশুকানিয়া গ্রামে প্রায় এক বিঘা জমির ওপর সুপরিকল্পিতভাবে বাগানটি গড়ে তোলা হয়েছে। বাঁশের তৈরি উঁচু মাচার ওপর লতানো গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল ও সবুজ রঙের আঙ্গুর। প্রতিটি থোকা আকারে বড়, দেখতে আকর্ষণীয় এবং পুরো বাগানজুড়ে গাছগুলো সুশৃঙ্খল সারিতে সাজানো, যা সহজেই নজর কাড়ে।

বাগানটির মালিক মো. আবুল হাসেম মোড়ল, যিনি পেশায় ছিলেন সেনাবাহিনীর সদস্য। অবসরের পর প্রবাসে থাকা ছেলের উৎসাহে তিনি এই ব্যতিক্রমী চাষ শুরু করেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা—রাজশাহীর বাঘা ও নাটোরসহ নানা স্থান থেকে উন্নত জাতের আঙ্গুরের চারা সংগ্রহ করেন তিনি। বর্তমানে বাগানে চারটি ভিন্ন জাতের আঙ্গুর রয়েছে।

বাগানের পরিচর্যায় নিয়োজিত মেজবাহ উদ্দিন জানান, মাত্র আট মাসের মধ্যেই গাছে ফল এসেছে, যা প্রথম বছরের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। তার আশা, আগামী বছর ফলন আরো কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। নিয়মিত পরিচর্যার পাশাপাশি পাখির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে বাগানজুড়ে জাল টানানো হয়েছে।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বলেন, “এ অঞ্চলে পরীক্ষামূলকভাবে আঙ্গুর চাষ শুরু হলেও ইতোমধ্যে তা সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। হাইব্রিডসহ বিভিন্ন জাতের আঙ্গুর চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে এবং কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরো আশা প্রকাশ করেন, “এ ধরনের উদ্যোগ দেশের ফল উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে।”

প্রথম বছরেই এ সাফল্য শুধু একজন চাষির অর্জন নয়; বরং এটি দেশের কৃষিখাতে নতুন সম্ভাবনার বার্তা বহন করছে। শ্রীপুরের এই আঙ্গুর বাগান ইতোমধ্যে অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।