সারা বাংলা

৫০ বছর বন্ধ কুমিল্লা বিমানবন্দর: দখলমুক্ত না হলে চালুর অনিশ্চয়তা

একসময় দেশের আকাশপথের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল কুমিল্লা বিমানবন্দর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ১৯৪০ সালে কুমিল্লার ঢুলিপাড়া এলাকায় ৭৭ একর জমির ওপর এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত এখানে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচল করলেও যাত্রী সংকট ও লোকসানের কারণে সে বছরই বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯৯৪ সালে স্বল্প সময়ের জন্য পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই তা আবার বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর কেটে গেছে প্রায় পাঁচ দশক। দীর্ঘ এই সময়ে অবহেলা, দখল এবং পরিকল্পনার অভাবে কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে আছে দেশের একটি ঐতিহাসিক বিমানবন্দর। সাম্প্রতিক সময়ে সরকার এ বিমানবন্দর নিয়ে নতুন পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। কিন্তু বেদখল, বিমানবন্দরের পাশে জনবসতি গড়ে ওঠায়, বিমানবন্দরটি চালু হওয়া প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। 

তবে ফ্লাইট বন্ধ থাকলেও কুমিল্লা বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি থেমে নেই। এখানে স্থাপিত আধুনিক নেভিগেশন সিস্টেমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আকাশপথে চলাচলকারী উড়োজাহাজকে নিয়মিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

কুমিল্লা বিমানবন্দরের সিএনএস প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন আহাম্মদ  জানান, ডিভিওআর, ডিএমই ও ভিস্যাট প্রযুক্তির মাধ্যমে ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি উড়োজাহাজ এই সেবা ব্যবহার করছে। এতে বছরে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে এবং সরকারও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পাচ্ছে।

অন্যদিকে, বিমানবন্দরের আশপাশে গড়ে ওঠা কুমিল্লা ইপিজেডে ৪৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। এখান থেকে গত বছর প্রায় ৯০২ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

কুমিল্লা থেকে প্রতিবছর হাজারো মানুষ বিদেশে গেলেও তাদের যাত্রা শুরু করতে হচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর ব্যবহার করে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

নগরবিদ ড. আলী হোসেন বলেন, কুমিল্লা বিমানবন্দর চালু হলে শুধু যাত্রীসেবাই নয়, পুরো অঞ্চলের শিল্প ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

কিন্তু দখলমুক্তকরণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত না হলে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এই বিমানবন্দর পুনরায় চালুর সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিতই রয়ে যাচ্ছে।