পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার আগে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। এর কেন্দ্রেবিন্দুতে আর কেউ নয় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে শুভেন্দু ও মমতা ও অনুগামীদের পাল্টাপাল্টি মাইক বাজানোকে কেন্দ্র করে শুরু হয় তীব্র বিশৃঙ্খলা। এই বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে মাঝপথে কর্মসূচি স্থগিত করতে বাধ্য হন মমতা - শুভেন্দু।
ঘটনার শুরু শনিবার বিকেলে। ভবানীপুর কেন্দ্রের জন্য শেষ শনিবাসরীয় প্রচার সেরে নিতে ময়দানে নেমেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলনেত্রীর রোড শো ও বিরোধী দলনেতা জনসংযোগ চলাকালে মুখোমুখি হয়ে যায় দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর কর্মীসমর্থকরা। শুরু হয় স্লোগান যুদ্ধ। একদিকে জয় বাংলা, অন্যদিকে জয় শ্রীরাম। আর এর পরই শুরু হয় তুমুল উত্তেজনা। জনসংযোগ থামিয়ে দেন শুভেন্দু অধিকারী। এই ঘটনার কয়েক ঘন্টা পর যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওয়ার্ড মিটিং করতে শুরু করেছেন তখন পাল্টা স্লোগান দিতে ময়দানে নামে বিজেপি। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, জনসভা চলাকালে মাঝপথে ভাষণ থামিয়ে মঞ্চ ছাড়েন তৃণমূল সুপ্রিমো।
শনিবার সন্ধ্যায় চক্রবেড়িয়া রোডে ৭০নম্বর ওয়ার্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনী সভা শুরু করেন। এই সভার ঠিক অদূরেই বিজেপি-র তরফে তারস্বরে মাইকিং শুরু করা হয়। এমন ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে প্রবল উত্তেজনার সৃষ্টি হয় স্লোগান-পাল্টা স্লোগান চলতে থাকে। বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। ততক্ষণে অবশ্য রেগে গিয়ে মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যান মমতা। এরপরেই মধ্যে ভবানীপুর থানায় তৃণমূলের তরফে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
যদিও মঞ্চ ছাড়ার আগে মাইক-সংঘাতের জেরে জনসভায় বক্তৃতা থামিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মমতা।
তিনি বলেন, “ওরা কেন করবে এটা? নির্বাচনের কতগুলো নিয়ম আছে। এমনটা হলে ওরাও যেদিন মিটিং করবে তোমরা তবে পাল্টা মাইক লাগিয়ে দেবে। তখন পুলিশ তুলতে আসলে, মেয়েদের ধরে এফআইআর করবে। এটা পার্শিয়ালিটি। আমায় মিটিংটা পর্যন্ত করতে দিচ্ছে না। আমি পারমিশন নিয়েছি।”
মমতা আরো বলেন, “আমাদের মিটিং-এর মাইকটা ক্রস করছে অন্য একটা মাইক-এর শব্দে। এটাতো হতে পারে না। আমরা অফিসিয়াল পারমিশন নিয়ে করছি।”
এরপর সভায় দাঁড়িয়ে কাউকে ফোন করেন তৃণমূলনেত্রী। তারপর বলেন, “মিটিং আমার পক্ষে করা সম্ভব? পারমিশন নিয়ে। এবার আপনারা বলুন। সাধারণ মানুষ দেখতে পাচ্ছেন। আমি সব অফিশিয়াল পারমিশন নিয়েছি। তারপরও দেখুন কী অ্যাটিটিউড। ওরা জোর করে পশ্চিমবঙ্গকে দখল করতে যা করছে, তা কিন্তু ঠিক নয়। আমি এক মাস এখানে ছিলাম না। আমি জেলায় জেলায় ঘুরছিলাম ২০০ আসনের জন্য। অভিষেকও প্রায় ১০০ আসনের জন্য প্রচার করছে। আপনারা যদি এমন আচরণ করেন, তা হলে আমি দুঃখিত। আমি আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো।”
তিনি আরো বলেন, “বুঝতে পারছেন, পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করছে কে। এই দেখুন, সামনে চিৎকার করছে, যাতে আমি মিটিংটা করতে না পারি। আমাকে ক্ষমা করবেন। আমি সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি কাল এখানে র্যালি করে দেব। আমি এই অসভ্যতামি করতে পারব না। এটা খুব অপমানজনক।”
এই প্রথম নয়, এর আগেও ২৩ এপ্রিল প্রথম দফা নির্বাচনের দিন তৃণমূলনেত্রীর প্রচারে বাধাদানের অভিযোগ তুলে সরব হন তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূলের অভিযোগ ওই দিন রোড শো-র অনুমতি চেয়েছিলেন মমতা। অনুমতি না পেয়ে মমতা রাস্তার ধারে চা-চক্রে জনসংযোগ সেরেছিলেন।
উল্লেখ্য, ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় ও শেষ দফায় রাজ্যের ১৪২ আসনে ভোটগ্রহণ। ভবানীপুর থেকে এবারো লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার বিরুদ্ধে লড়াই করছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ফলে এই আসনে একদিকে যেমন তৃণমূলের প্রেস্টিজ লড়াই তেমনি বিজেপির কাছে ইজ্জতের সওয়াল। প্রথম দফার জন্য প্রচার শেষে কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় প্রচার করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর নিজের আসনেই তাকে বাধার সম্মুখীন হতে হল।