রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজের শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অধ্যক্ষের কার্যালয়ে বিএনপিকর্মী শাহাদ আলীকে চড় মারার ঘটনায় তাকে এ শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক তাকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দিয়েছেন।
তবে, আলেয়া খাতুন হীরাকে জুতাপেটা করা বিএনপিকর্মী শাহাদ আলী এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন। তার বিরুদ্ধে আগেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। একইসঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষও ভয়ের কারণে কোনো মামলা করেনি।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) তাফসির মাহফিলের জন্য চাঁদা সংগ্রহ করতে কয়েকজন বিএনপি নেতা কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলী, ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, ওয়ার্ড বিএনপির নেতা আফাজ উদ্দিন, এজদার আলী এবং গ্রাম্য মাতব্বর আব্দুস সামাদ ওরফে সামাদ দারোগা।
অধ্যক্ষের কার্যালয়ে তাদের সঙ্গে আলেয়া খাতুন হীরার বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। আলেয়ার অভিযোগ, এ সময় শাহাদ আলী তাকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি শাহাদ আলীকে একটি চড় দেন। এর জের ধরে শাহাদ আলী তাকে জুতাপেটা করেন এবং চুল ধরে টানাহেঁচড়া করেন। একই সময় অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাককেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
বিএনপির নেতাকর্মীরা শনিবার (২৫ এপ্রিল) সংবাদ সম্মেলন করে অধ্যক্ষ ও ওই শিক্ষিকার অপসারণের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। পাশাপাশি বিকেলে এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করা হয়।
পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মো. আছাদুজ্জামান রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে কলেজটি পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তবে, তিনি কলেজে গিয়ে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও আলেয়া খাতুন হীরাকে পাননি। অসুস্থতার কারণে তারা অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানানো হয়।
কলেজ থেকে ফিরে মাউশি কার্যালয়ে অধ্যক্ষকে ডেকে আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন পরিচালক অধ্যাপক মো. আছাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, “উচ্ছৃঙ্খল আচরণের অভিযোগে আলেয়ার বিরুদ্ধে এলাকায় বিক্ষোভ হচ্ছে। এ কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে অধ্যক্ষ ও প্রদর্শককে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে এবং তাদের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকেও ঘটনার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তিনটি প্রতিবেদন একত্র করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।
অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, “একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে কলেজের পুকুর ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করলেও টাকা দেয় না। তারা কলেজের জমিতে পুকুর খনন করেও অর্থ পরিশোধ করেনি। বরং দফায় দফায় এসে নানা অজুহাতে চাঁদা নিয়ে যায়। পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।”
মামলা না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মামলা করলে সেখানে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। ইতোমধ্যে বিষয়টি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।”
সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার কথা জানিয়েছেন অধ্যক্ষ। তবে, দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চানন্দ সরকার জানিয়েছেন, অধ্যক্ষ থানায় এসে জিডি করতে চাননি; অনলাইনে জিডি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, এ ধরনের বিষয়ে অনলাইনে জিডি করার সুযোগ না থাকায় তা করা সম্ভব হয়নি।
ওসি আরো জানান, আলেয়া খাতুন হীরাকে জুতাপেটা করা শাহাদ আলীর বিরুদ্ধে আগেই একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। এর মধ্যেই তিনি কলেজে এসে ঘটনাটি ঘটান। পুলিশ আগে এ বিষয়ে অবগত না থাকলেও বর্তমানে বিষয়টি জানা গেছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কাজ করছে।
এ ঘটনার পর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে, শাহাদ আলীর কোনো সাংগঠনিক পদ না থাকায় তার বিরুদ্ধে দলীয় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।