‘সুনীল আলোয় বাউল সুর’—শিরোনামে ময়মনসিংহের টাউনহলে আয়োজন করা হয় বাউল সাধক সুনীল কর্মকার স্মরণে ব্যতিক্রমী এক অনুষ্ঠানের। এতে অংশ নেন পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতিমান কণ্ঠশিল্পী মৌসুমী ভৌমিক। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেল ৩টা থেকে শুরু হয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে ছিল গান, স্মৃতিচারণা আর এক অনন্য আবেগঘন পরিবেশ।
এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রায় দুই দশক পর আবার ময়মনসিংহে পা রাখলেন মৌসুমী ভৌমিক। স্মৃতিচারণায় মৌসুমী জানান, ২০০৬ সালে গবেষণার কাজে প্রথমবার এই শহরে আসেন তিনি। তখন বাংলার লোকগানে ‘বিরহ’ চেতনা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে পরিচয় হয় বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকারের সঙ্গে।
মৌসুমী ভৌমিক বলেন, “শিল্পী হিসেবে নয়, গবেষক হিসেবে প্রথমবার এসেছিলাম। রবিন ভাইয়ের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ হয়। প্রথম দিন তার বাড়িতে গিয়ে দেখি তিনি ঘরে নেই, কিন্তু বাইরে থেকেই তার কণ্ঠ ভেসে আসছিল। সেই মুহূর্তেই যেন এক গভীর আধ্যাত্মিক শক্তির স্পর্শ পাই।”
অনুষ্ঠানে তিনি তুলে ধরেন সুনীল কর্মকারের সঙ্গে কাটানো নানা স্মৃতি, বিশেষ করে একসঙ্গে করা রেকর্ডিংয়ের অভিজ্ঞতা। তার কণ্ঠে ধরা পড়ে সেই সময়ের আবেগ আর শ্রদ্ধা।
মৌসুমী ভৌমিক বলেন, “সুনীলদার মতো মানুষরা কোনো গণ্ডিতে আটকে ছিলেন না—না হিন্দু, না মুসলমান; তারা ছিলেন প্রকৃত সাধক। এই কঠিন সময়ে আমাদের আরো উদার হতে হবে, আর সেই শিক্ষা আমরা তাদের কাছ থেকেই নিতে পারি।”
স্মরণানুষ্ঠানটি শুধু একজন শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং হয়ে উঠেছিল বাংলার লোকসংগীত, আধ্যাত্মিকতা এবং মানবিকতার এক উজ্জ্বল মিলনমেলা।