বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার কেন্দ্রীয় সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সাবেক সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ রইস উদ্দিন হত্যার বিচার দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের দিকে যেতে চাইলে কদম ফোয়ারার সামনে পুলিশ বেরিকেড দেয়। একপর্যায়ে তারা পুলিশের বেরিকেড ভেঙে মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের দিকে যান। পরে দলটির নেতারা মাওলানা রইস হত্যার বিচার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে স্মারকলিপি জমা দেন।
সোমবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের হাতে স্মারকলিপি জমা দেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব স উ ম আব্দুস সামাদ। তার সঙ্গে ছিলেন— জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা ও দলের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরি, গোলাম মাহমুদ ভূইয়া মানিক এবং যুবসেনার সভাপতি ডা. এস এম সরওয়ার প্রমুখ।
পরে তারা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশেও স্মারকলিপি জমা দেন। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের দাবিগুলো হলো:
১. মাওলানা রইস উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।
২. এজাহারভুক্ত ১৭ জন নামীয় আসামিসহ সকল অজ্ঞাত অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।
৩. ডিজিটাল প্রমাণের (ভিডিও ফুটেজ) ভিত্তিতে অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।
৪. দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারী পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫. ভিকটিম পরিবারকে যথাযথ নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
৬. সারা দেশে ‘মব ভায়োলেন্স’ প্রতিরোধে কঠোর আইন ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৭. বিচারপ্রার্থী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত পাঁচলাইশ থানার মামলা এবং চান্দগাঁও থানার মামলাসহ সকল মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
এর আগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দলের সাংগঠনিক সচিব অ্যাডভোকেট কাজী মোহাম্মদ ইসলাম উদ্দীন দুলালের সভাপতিত্বে ও ঢাকা মহানগরীর সিনিয়র সহ-সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল হাকিমের সভাপতিত্বে সমাবেশ হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা স উ ম আব্দুস সামাদ বলেন, “গত ২৭ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের হায়দারাবাদ এলাকায় এক ভয়াবহ মব ভায়োলেন্সের শিকার হন মাওলানা রইস উদ্দিন। একটি সাজানো ও মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে গাছের সাথে বেঁধে নির্মম নির্যাতন চালানো হয় এবং সেই নির্যাতনের ভিডিও অনলাইনে প্রচার করা হয়। পরবর্তী সময়ে পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও আসামিদের পরিচয় জনসমক্ষে থাকলেও এক বছরেও কাউকে গ্রেপ্তার না করা আইনের শাসনের চরম লঙ্ঘন।”
তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সাংবিধানিক দায়িত্ব। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা না হলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারের প্রতি অনাস্থা তৈরি হবে এবং দেশে মব সন্ত্রাস আরো ভয়াবহ রূপ নেবে। তারা প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
সমাবেশে ইসলামী ফ্রন্টের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা আবু সুফিয়ান আবেদী আল কাদরী, পীর মুফতি গিয়াস উদ্দীন তাহেরী, কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম মাহমুদ ভূইয়া মানিক, কাজী জসিম উদ্দীন সিদ্দিকী আশরাফী, পীর ওয়ালি উল্লাহ আশেকী, অ্যাডভোকেট ইকবাল হাছান, মনজুর আহমদ রেফায়ী, গাজী এম কে মোবারক, মুফতি ইকবাল হোসেন আল কাদরী, শাইখ মহিউদ্দীন হামেদী, যুবসেনার সভাপতি ডা. এস এম সরওয়ার, সাধারণ সম্পাদক আবু নাসের মোহাম্মদ মুসা, মুফতি গোলাম রব্বানী কাসেমী, এনাম রেজা, ছাত্রসেনার কেন্দ্রীয় সভাপতি আজাদ হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন, এইচ এম আহসান উল্লাহ, সাংবাদিক গাজী জাহাঙ্গীর আলম জাবির, আলমগীর হোসেন যুক্তিবাদী, কাজী মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন নুরী, মাওলানা ফরহাদুল ইসলাম বুলবুললি, কাজী মো. তৈয়ব আলী, আলমগীরুল ইসলাম বঈদী, আনোয়ার হোসেন, মাওলানা ইদ্রিস আহমদ আল কাদরী, মাওলানা আমিনুল ইসলাম ওয়ালী, মারুফ বিল্লাহ আশেকী, মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম কাজল, নাসির উদ্দীন মাহমুদ, মো. মোশাররফ হোসেন শহীদুল, মশিউর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।