অর্থনীতি

ওয়ালটনে জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস পালিত 

“মনোসামাজিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করি, শোভন কর্মপরিবেশ গড়ি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ‘নিরাপত্তা দিবসের প্রত্যয় আজ, পারমিট নিয়ে করবো কাজ’ স্লোগানে নানান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশের শীর্ষ গ্লোবাল ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড ওয়ালটনে পালিত হলো জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস। 

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে ওয়ালটন সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে বিশেষ সেফটি র‍্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ইএইচএস বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ওয়ালটন তার প্রতিটি কর্মীর সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। শিল্প কারখানায় দুর্ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে এবং আন্তর্জাতিক মানের সেফটি স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখতে ইএইচএস বিভাগ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে মেশিনারিজ সেফটি, কেমিক্যাল হ্যান্ডলিং এবং অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের শ্রম আইন ও বিএনবিসি বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।

জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির হেডকোয়ার্টার্সে এনভায়রনমেন্ট, হেলথ অ্যান্ড সেইফটি (ইএইচএস) বিভাগের পক্ষ থেকে নানান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সচেতনতামূলক র‌্যালি, আলোচনা সভা, আইডিয়া শেয়ারিং এবং ‘নেয়ারমিস ও হ্যাজার্ড রিপোর্টিং’ কনটেস্টে অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী, এবং উপস্থিত সকলের মাঝে পরিবেশ বন্ধু গাছ ও লাইভ সেভিং কার্ড বিতরণ ইত্যাদি।

অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির এ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ ইউসুফ আলী । তার উপস্থিতিতে কর্মীদের মাঝে পেশাগত স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে সচেতনতামূলক র‌্যালি বের করা হয়। 

মোহাম্মদ ইউসুফ আলী তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, “‘সুস্থ শ্রমিক, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চাই। ওয়ালটন সবসময় আন্তর্জাতিক মানের সেফটি কমপ্লায়েন্স মেনে চলে এবং ভবিষ্যতেও আমরা প্রতিটি কর্মীর জন্য একটি বিপদমুক্ত কর্মস্থল নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নিরাপত্তা আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রধান অংশ হয়ে উঠেছে, এবং যা সকল দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দ্বারা অর্জিত হয়েছে।”

আলোচনা সভায় ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ইএইচএস বিভাগের প্রধান মো. মোস্তাফিজুর রহমান রাজু বলেন, “ওয়ালটনে কর্মরত প্রত্যেকেই একটা পরিবার। ওয়ালটন তার পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে বদ্ধ পরিকর। এ লক্ষে বহু কর্মসূচি চলমান রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি নিরুপন, নিয়মিত মনিটরিং, নিয়মিত প্রশিক্ষন প্রদান, থার্ড পার্টি অডিট, দুর্ঘটনা পরবর্তী তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মিত ফায়ার ড্রিল, ভালো কাজে পুরস্কার প্রদান, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে পারমিট গ্রহণ, সময়োপযোগী বিভিন্ন ক্যাম্পেইন, ভিজুয়াল অ্যাওয়ার্নেস ইত্যাদি। একজন সুস্থ্য ও সুরক্ষিত কর্মী কোম্পানির সম্পদ ও তারা কোম্পানির উন্নয়নে অনেক অবদান রাখতে পারে। ওয়ালটন শ্রমিক কল্যাণ তহবিল ও সরকারি শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত কর্মীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।”

আলোচনা সভায় শ্রমিক অংশগ্রহণকারী কমিটির পক্ষে সহ-সভাপতি ও শ্রমিক প্রতিনিধি উজ্জ্বল সরকার বলেন, “আমরা একটি নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে চাই। আমরা আরো সচেতন হবো এবং আমাদের পক্ষ থেকে যা যা করা দরকার করব। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা- কর্মক্ষেত্র আরো নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সকল উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।” 

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ম্যানেজিং ডিরেক্টরের বিজনেস কো-অর্ডিনেটর প্রতিক কুমার মোদক, প্রশাসন বিভাগের প্রধান তানভীর আহমেদ। এছাড়া, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রতিনিধিরা, অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টরের ডেপুটি সেলিম রাজা রাসেল, ইএপি সিসিও (চিফ কোয়ালিটি অফসার) মো. মুজাহিদুল্ ইসলাম, সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর মামুন, টিভি প্রোডাকশন প্রধান কাজি এম হাসিবুল হক, ইএসএম (মেকানিক্যাল) বিভাগের প্রধান টিএম জাকির হোসেইন, ইএসএম (ইলেকট্রিক্যাল) মো. নাজমুল ইসলাম, ইএসএম (ইলেকট্রনিক্স) বিভাগের প্রধান কামরুল হাসান, রেফ্রিজারেটর প্রোডাকশন উপ-বিভাগীয় প্রধান মো. রিপন হায়দার, ওয়ালটন ডিজিটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মোবাইল প্রোডাকশন ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জমান, ইএইচএস বিভাগের মো. মাহফুজ হোসেন, মো. তাজমীর হাসান, মো. রায়হান এবং মো. ইশাদুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তা, অংশগ্রহণকারী কমিটি ও সেইফটি কমিটির শ্রমিক প্রতিনিধিসহ ঊর্ধ্বতন আরো অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইএইচএস এর বিভাগীয় প্রধান মো. মোস্তাফিজুর রহমান রাজু।