ঝিনুকের মতো দেখতে নান্দনিক স্থাপনা। গ্লাসের দেয়াল আর স্টিলের আবরণে বাইরের অংশ চকচকে। দৃষ্টিনন্দন নকশার ভবনটি নজর কড়ে খুব সহজেই। বাংলাদেশের ক্রিকেট অবকাঠামোয় অনন্য সংযোজন চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামের এই ইনডোর। বৃষ্টি মাথা নিয়ে এই স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পা পড়েছিল নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট দলের।
মাঠে নামতে না পেরে তাদের ভরসা হয়ে উঠে দৃষ্টিনন্দন এই ইনডোর। জাপানি উন্নয়ন সংস্থা জাইকার অর্থায়নে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় এই ইনডোর নির্মিত। ২০২৩ সালে এটি উদ্বোধন করা হলেও তখনও মূলত ব্যবহার উপযোগী ছিল না। এখন পুরোদমে চলছে ব্যবহার।
টি-টোয়েন্টি সিরিজে পিছিয়ে পড়া নিউ জিল্যান্ড চট্টগ্রামে সমতা ফেরাতে মরিয়া। এজন্য তুমুল বৃষ্টির দিনেও তারা মাঠমুখী। অন্যদিকে পাঁচ তারকা হোটেল র্যাডিসনে বৃষ্টিবিলাস করেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। প্রথম ম্যাচ দাপটের সঙ্গে জিতে সিরিজে এগিয়ে স্বাগতিকরা। ফুরফুরে, চনমনে রয়েছেন তারা। দুয়েকজন জিম করেছেন। সুইমিংয়ে ছিল বেশ কয়েকজন। আর বাকিরা গুমোট দিনে হোটেলবন্দী রেখেছেন নিজেদের।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ ৬ উইকেটে জেতে বাংলাদেশ। ১৮৩ রান তাড়া করে ১৮ ওভারে। তাওহীদ, পারভেজ ও শামীমের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে অতি সহজেই। শুরুর ব্যাটিং নিয়ে চিন্তা থাকলেও মিডল ও লেট মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা যেভাবে ব্যাটিং করেছে তা মুগ্ধতা ছড়িয়েছে বেশ।
পাঁচ মাস আগে এই টি-টোয়েন্টি দল নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভালো কিছু করতে পারে সেই বিশ্বাস ছড়িয়েছিল। কিন্তু সরকারের ‘বিতর্কিত’ সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করতে পারেনি বিশ্বকাপে। তৎকালীন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নেন অতি সহজে। এছাড়া বোর্ডও পারেনি সরকারের সিদ্ধান্ত পাল্টাতে। সম্মিলিত সিদ্ধান্তেই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ ‘বিসর্জন’ দেয় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ কতটা ভালো অবস্থানে ছিল তা স্পষ্ট হয়ে যায় গতকাল চট্টগ্রামে বাংলাদেশের আগ্রাসী মনোভাবে টি-টোয়েন্টি খেলার ধরনে। বোলিংয়ে পিছিয়ে পড়েও হাল না ছেড়ে লক্ষ্য নাগালে রাখে। আবার ব্যাটিংয়ে পিছিয়ে পড়েও অনায়েস জয় তুলে নেয়। চাপহীন ক্রিকেট খেলার যে মানসিকতার কথা বছরের পর বছর ধরে বলা হচ্ছিল, তা দেখা যায় ২২ গজে।
চট্টগ্রামে গিয়ে বাংলাদেশ ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত করে ২-১ ব্যবধানে। বুধবার দুপুর ২টায় দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি দুই দলের। বাংলাদেশ চট্টগ্রামেই সিরিজ নিশ্চিত করতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশের ইচ্ছাপূরণে বাঁধ সাধতে পারে বেরসিক বৃষ্টি। বুধবারও চট্টগ্রামে বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া পূর্বাভাস বলছে, দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতও হতে পারে। এরপর বৃষ্টি থেমে যেতে পারে। আজ সরাদিনই চট্টগ্রামে বৃষ্টি পড়েছে। পানিতে তলিয়েছে একাধিক রাস্তা। নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট দলকে অনুশীলনের পর অনেকটা সময় ড্রেসিংরুমে অপেক্ষা করতে হয়েছে। পানি নামার পরই তারা মাঠ থেকে বেরোতে পারে।
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বৃষ্টির দাপট হবে নাকি স্বাগতিকরা আবার ২২ গজে প্রভাব বিস্তার করবে? উত্তর পেতে, আগামীকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টিতে ২১ বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও নিউ জিল্যান্ড। এর মধ্যে ৫টি ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। ১৫ ম্যাচে জয় কিউইদের। ১টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র একবার সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ঘরের মাঠে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে জিতে নেয়। আজ জিতলে দ্বিতীয় সিরিজ জয় হবে বাংলাদেশের।
এছাড়া ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ও নিউ জিল্যান্ডের মধ্যকার সর্বশেষ তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হয়। নিউ জিল্যান্ড সফরে প্রথম ম্যাচেই ৫ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। তৃতীয় ম্যাচ বৃষ্টি আইনে ১৭ রানে জিতে সিরিজ হার এড়ায় নিউ জিল্যান্ড।