ইউরোপ এখন বিশ্বের দ্রুততম উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশ। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডাব্লিউএমও) এবং ইউরোপীয় মধ্যম-পরিসরের আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্রের (ইসিএমডাব্লিউএফ) এক যৌথ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ২০২৫ সালের জলবায়ু পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা এই রিপোর্টটি প্রকাশ করা হয়, যা এই অঞ্চলের পরিবেশগত সংকটের এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। খবর আল-জাজিরার।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে ইউরোপের প্রায় প্রতিটি দেশেই তাপমাত্রা গড়ের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। উত্তর মেরু থেকে শুরু করে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া দাবানলে গত বছরে প্রায় ১০ লাখ হেক্টর বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এছাড়া শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে মহাদেশটির প্রায় ৭০ শতাংশ নদীর পানির প্রবাহ স্বাভাবিকের চেয়ে নিচে নেমে গেছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে ইউরোপের শীতলতম দেশগুলোতে। নরওয়ে, সুইডেন এবং ফিনল্যান্ডের মতো দেশগুলো জুলাই মাসে টানা ২১ দিনের এক নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ প্রত্যক্ষ করেছে। এ সময় আর্কটিক সার্কেল বা সুমেরু বৃত্তের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, যা ওই অঞ্চলের জন্য বিরল।
রিপোর্টে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের মার্চ নাগাদ ইউরোপের তুষারাবৃত অঞ্চলের পরিমাণ ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া আইসল্যান্ডে ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম হিমবাহ ক্ষয় রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি আটলান্টিক মহাসাগর এবং ভূমধ্যসাগরে তীব্র ‘সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ’ রেকর্ড করা হয়েছে।
ইসিএমডাব্লিউএফ-এর জলবায়ু কৌশলগত প্রধান সামান্থা বার্গেস বলেন, “২০২৫ সালের প্রতিবেদনটি একটি কঠোর বাস্তবতাকে তুলে ধরছে যে- জলবায়ু পরিবর্তনের যে গতি, তাতে এখনই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, ব্যাপক দাবানল এবং খরা প্রমাণ করে যে- জলবায়ু পরিবর্তন ভবিষ্যতের কোনো হুমকি নয়, এটি আমাদের বর্তমান বাস্তবতা।”