সারা বাংলা

দমকা হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিতে বাগেরহাটে জলাবদ্ধতা, বোরো ধানের ক্ষতি

বাগেরহাটে সকাল থেকে দমকা হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টিপাতে শহরের নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে নিম্নআয়ের মানুষ ও বিভিন্ন পেশাজীবী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আরো বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

হঠাৎ দমকা হাওয়া, বজ্রপাত ও স্বল্পস্থায়ী ভারী বৃষ্টিতে পৌরসভার অলিগলি পানিতে ডুবে গেছে। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে।

শহরের একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার মধ্যে কষ্ট করে থাকতে হচ্ছে আমাদের। ড্রেনের পানি উঠে বিছানা ও কাপড় ভিজে যায়। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি দরজা দিয়ে দ্রুত পানি ঢুকছে। ড্রেন দিয়ে পানি নামছে না, বরং বাড়ছেই।”

একই মাদ্রাসার শিক্ষক মো. রিয়াজুল ইসলাম জানান, সেখানে শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে এবং বর্ষা এলেই মাদ্রাসা প্রায় নিয়মিত প্লাবিত হয়। তিনি বলেন, “ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না, আশপাশের জায়গা উঁচু হলেও মাদ্রাসার জমি নিচু হওয়ায় পানি জমে থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের থাকা ও পড়াশোনায় মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে।”

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ফাইজুল ইসলাম বলেন, “২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই ভোগান্তি চলছে।” তার অভিযোগ, ড্রেন নির্মাণ করা হলেও তা সচল নেই এবং ড্রেনের মুখে অবৈধ স্থাপনা থাকায় পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, “আজকের বৃষ্টি পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করে দিয়েছে। শিশুদের নিয়ে কোথায় যাবো বুঝতে পারছি না। প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছি।”

এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বাগেরহাটের মোংলা সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মোংলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ হারুন অর রশিদ জানান, দমকা হাওয়া, বজ্রপাত ও স্বল্পস্থায়ী ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও বন্দরে পণ্য ওঠানামা স্বাভাবিক রয়েছে।

অন্যদিকে, টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কৃষিতেও। বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোতাহার হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টরের ধান কাটা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে ৮ থেকে ১০ শতাংশ জমির ধান ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, টানা বৃষ্টি ও দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে বাগেরহাটে নগরজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে দুর্ভোগ আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।