কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ওপারে মিয়ানমার সীমান্তে আবার গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ১১টা থেকে ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন সীমান্তের বাসিন্দারা। এতে তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে জানতে বুধবার (২৯ এপ্রিল) উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলামের মোবাইলে যোগাযোগ করলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজিবির এক কর্মকর্তা সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির শব্দ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের কথা বলে জানা যায়, বালুখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার-২০ থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে আনুমানিক দেড় কিলোমিটার দূরে মিয়ানমারের ‘চাকমা কাটা’ এলাকায় এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
তাদের ধারণা, একাধিক রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘর্ষ চলে আসছে।
বালুখালী সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা রইজ উদ্দিন বলেন, “মঙ্গলবার রাত ১১টার পর থেকে মিয়ানমার অভ্যন্তর থেকে গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসে। এতে আমার পুরো পরিবারসহ এলাকার অন্যরাও ভয়ে ও আতঙ্কে ছিলাম। রাতে কেউ ঘুমাতে পারিনি।”
ওই এলাকার বাসিন্দা মৎস্য ব্যবসায়ী নুরুল হক বলেন, “হঠাৎ গভীর রাতে গোলাগুলির শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। প্রথমে মনে হয়েছিল, হয়তো কাছাকাছি কোথাও কিছু ঘটছে। পরে বুঝতে পারি, মিয়ানমারের ভেতর থেকেই শব্দ আসছে। এতে শিশু ও নারীরা বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।”
ছালামত উল্লাহ বলেন, “গোলাগুলির শব্দ শুনে পরিবারের সবাই ঘরের ভেতরে ছিলাম, বাইরে বের হওয়ার সাহস পাইনি। সারারাত আতঙ্কের মধ্যে কাটাতে হয়েছে।”
উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “দীর্ঘদিন পর আবারো মিয়ানমারে গোলাগুলির শব্দ শুনেছেন উখিয়া সীমান্তের বাসিন্দারা। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”
সীমান্তে মিয়ানমার অভ্যন্তর থেকে বেশ কয়েক মাস গোলাগুলির আওয়াজ শোনা না গেলেও মাইন বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটেছে। গত মার্চ মাসের শেষের দিকে এবং এপ্রিলের শুরুতে মাইন বিস্ফোরণের একাধিক ঘটনায় চার রোহিঙ্গা যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজিবির এক কর্মকর্তা বলেন, “মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে ভেসে আসা গোলাগুলির শব্দ সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা শুনেছেন বলে খবর পেয়েছি। সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সব সময় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”