স্বাস্থ্য

হামের টিকাদানে সংক্রমণপ্রবণ এলাকায় আক্রান্ত কমছে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

দেশে হামের প্রকোপ বাড়লেও টিকাদান কার্যক্রমের ফলে সংক্রমণপ্রবণ এলাকাগুলোতে আক্রান্তের হার কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিশেষ করে যেসব উপজেলায় টিকাদান ক্যাম্পেইন চালানো হয়েছে, সেসব এলাকায় নতুন রোগী প্রায় নেই বললেই চলে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. চিরঞ্জিত দাস বলেন, “ভ্যাকসিন কার্যকারিতা দেখাতে সাধারণত ২ থেকে ৩ সপ্তাহ সময় লাগে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৫ এপ্রিল থেকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত ৩০টি উপজেলায় টিকাদান শুরু হওয়ার পর বর্তমানে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষ করে ১৭ এপ্রিলের পর থেকে রোগীর সংখ্যা দৃশ্যমানভাবে হ্রাস পেতে শুরু করেছে। একই প্রবণতা ৫টি সিটি কর্পোরেশন এলাকাতেও দেখা যাচ্ছে।তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই দেশব্যাপী টিকাদানের ইতিবাচক প্রভাব আরো স্পষ্ট হবে।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, প্রথম পর্যায়ে ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন যুক্ত করা হয়।

তিনি বলেন, “২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে বিনামূল্যে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬১ শতাংশ।”

মাঠ পর্যায়ে টিকা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি রুটিন ইপিআই কার্যক্রমের টিকাও পর্যাপ্ত রয়েছে এবং আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে নতুন চালান পৌঁছানোর কথা রয়েছে।