সারা বাংলা

চিকিৎসক দম্পতির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক চিকিৎসক দম্পতির বিরুদ্ধে আয়েশা (১০) নামে গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।  বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শিশুটিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষতচিহ্নের দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। 

এদিকে, নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নোমান ও কিমিয়া সাদাত তোফা দম্পতি। চিকিৎসক নোমান জানান, গত ২২ এপ্রিল আয়েশা তাদের ঘর থেকে দুই ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী আয়েশা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছড়াইল উপজেলার পাকশিমুল এলাকার রাকিব মিয়ার মেয়ে।

শিশুটির পরিবার জানায়, ৯ মাস আগে নানার মাধ্যমে আয়েশাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তর মৌড়াইল এলাকার চিকিৎসক দম্পতি নোমান ও তোফার বাসায় কাজের জন্য দেন। পরিবারের অভিযোগ, তিন মাস ধরে আয়েশার সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছিল না তাদের।

সম্প্রতি ওই চিকিৎসক দম্পতি পরিবারকে জানায়, আয়েশা বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে। আয়েশার কোনো খোঁজ না পেয়ে গত ২৬ এপ্রিল সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তারা। এর প্রেক্ষিতে বুধবার সকালে পুলিশ চিকিৎসক দম্পতির পাশের বাড়ি থেকে আয়েশাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়।

আয়েশার বাবা রাকিব মিয়ার অভিযোগ, ‍আয়েশাকে বিভিন্ন সময় কাজের জন্য নির্যাতন করা হতো। তার শরীরজুড়ে নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে চিকিৎসক নোমান জানান, স্ত্রী তোফা গর্ভবতী হওয়ায় দুই শিশুকে দেখাশোনা করার জন্য আয়েশাকে তিনি নিয়ে এসেছিলেন। সম্প্রতি তিনি ট্রেনিংয়ের জন্য ফিলিপাইনে ছিলেন। গত ২২ এপ্রিল আয়েশা তাদের ঘর থেকে দুই ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৭০ হাজার টাকা চুরি করে পালিয়ে যায়। এই খবর পেয়ে তিনি ফিলিপাইন থেকে ছুটে আসেন। পরে সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বলেও জানান তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সাইফুর রহমান জানান, শিশুটির শরীরে বিভিন্ন ধরণের আঘাতের দাগ রয়েছে। এগুলো কি ধরনের আঘাত তা পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে৷ আপাতত তাকে পোস্ট ট্রমাটিক ডায়াগনোসিস দেওয়া হয়েছে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, নিখোঁজ সংক্রান্ত বিষয়ে দায়ের করা সাধারণ ডায়েরির আলোকে আয়েশাকে উদ্ধার করা হয়েছে।  নির্যাতন কিংবা চুরির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আসেনি। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।