সারা বাংলা

সাত জেলার ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার শঙ্কা

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য অব্যাহত রয়েছে। সেই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় বজ্রমেঘ তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাবে দেশের সাত জেলার ওপর দিয়ে ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার শঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। পাশাপাশি দেশের চারটি সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

পটুয়াখালীতে গত দুইদিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বুধবার সকাল ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার কলাপাড়ায় ১২০.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে খেপুপাড়া আবহাওয়া অফিস। 

এদিকে উপকূলীয় এলাকায় এখনো থেমে থেমে ঝড়ো বাতাস বইছে। নদ-নদীর পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। 

আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, বায়ুচাপ তারতম্যের আধিক্যের প্রভাবে পটুয়াখালী, খুলনা, বরিশাল, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চল সমূহের ওপর দিয়ে ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এ কারণে আজও এসব এলাকার নদী বন্দর সমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত এবং দেশের চারটি সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি মাছধরা ট্রলার সমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। 

বাউফলের আলোকীচাঁদকাঠী গ্রামের কৃষক খোকন গাজী বলেন, “আমি ৩০ শতাংশ জমিতে মুগডাল চাষ করেছি। গত দুইদিনের বৃষ্টিতে আমার ডালের ক্ষেত এখন পানির নিচে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে মুগডাল গাছে পঁচন ধরতে পারে।” 

কলাপাড়ার চাকামাইয়া ইউনিয়নের পূর্ব চাকামাইয়া গ্রামের মৎস্য চাষি সুমন হোসেন বলেন, “দুইদিনের বৃষ্টিতে আমার ঘেরের পার পানিতে ছুঁই ছুঁই অবস্থা। ঘেরের চারপাশে নেট জাল দিয়েছি। এরপরও বৃষ্টি হলে ঘের তলিয়ে যাবে এবং বড় লোকসানে পড়ব।”

পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী বলেন, “ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকানো এবং বজ্রবৃষ্টি আরো তিনদিন হতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।”