বিনোদন

রাহুলের মৃত্যু: পুত্রকে নিয়ে কেমন আছেন প্রিয়াঙ্কা?

ধারাবাহিক নাটকের আউটডোর শুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রের জলে পড়ে মারা যান ভারতীয় বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মৃত্যুর পর কেটে গেছে ৩১ দিন। স্বামী সুখ কতটা কাটিয়ে উঠেছেন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার; কেমন আছে তাদের পুত্র সহজ! এসব বিষয় নিয়ে ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। 

এ আলাপচারিতায় সঞ্চালক বলেন, কেমন আছেন—প্রশ্নটি করতে অস্বস্তি হচ্ছে। এ কথা শুনে প্রিয়াঙ্কা সরকার বলেন, “সত্যি একটা কথা বলব? আমি নিজেও জানি না এই মুহূর্তে কেমন আছি। নানা সময়ে নানারকম আছি। কখনো খুব দুর্বল লাগছে; উইক হয়ে পড়ছি। আবার কখনো নিজেকে খুব স্ট্রং মনে হচ্ছে। কাছের মানুষ, কাজের জায়গা থেকে স্ট্রেংথ খুঁজে নিতে হচ্ছে। অনেকেই জানতে চাইছেন কেমন আছি! এই প্রশ্নের সত্যিই কোনো উত্তর এই মুহূর্তে আমার কাছে নেই।” 

স্বামী হারানোর শোক নিয়েই শুটিংয়ে ফিরেছেন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। গত ১০ এপ্রিল প্রথম শুটিং করেন তিনি। কাজে ফেরাটা কি খানিকটা থেরাপির ভূমিকা নিয়েছে? সঞ্চালকের এ প্রশ্নের জবাবে প্রিয়াঙ্কা সরকার বলেন, “একদম তাই। এটা একেবারে সঠিক শব্দ। কাজ-ই আমার থেরাপি। কোনো চরিত্র হয়ে ক্যামেরার সামনে যখন দাঁড়াই, সেটা হলো প্রিয়াঙ্কার সবচেয়ে অথেনটিক সত্তা। তখন বাকি সবকিছুর সুইচ অফ করে দিই। এ কারণে কাজটা করতে ভীষণ উপভোগ করি। আর আমি তো একা কাজ করি না। অনেকে থাকেন, কাজের একটা আলাদা পরিবেশ থাকে। সব মিলিয়ে আমি কিছুক্ষণের জন্যে হলেও সবকিছু থেকে দূরে থাকতে পারি। ঠিক সেই জন্য কাজটা করতে ভীষণ এনজয় করি। কাজের চেয়ে ভালো থেরাপি সত্যিই আর অন্য কিছু নেই।” 

কঠিন সময়ে পুত্র সহজকে কীভাবে পাশে পেলেন? এ প্রশ্নের জবাবে প্রিয়াঙ্কা সরকার বলেন, “আমরা প্রত্যেকেই নিজেদের মতো করে সামলে ওঠার চেষ্টা করছি। আমার মনে হয় সেই স্পেসটা দেওয়া সবেচেয়ে জরুরি। আমিও কাজে ফিরেছি। সহজও স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। পড়াশোনা নিয়ে সময় কাটাচ্ছে। আমি সত্যিই জানি না সহজ কেমন আছে। কারণ আমি যা বলব, তা অনুমান করে বলা হবে। আর তা উচিত হবে না।” 

খানিকটা ব্যাখ্যা করে প্রিয়াঙ্কা সরকার বলেন, “আমি সহজকে সময় দিয়েছি। ওর নিজের ভাবনাগুলোকে একটু গোছাতে শিখুক। সহজের যদি মনে হয়, এই সময়টায় ও কীভাবে ডিল করলো সেটা বলতে চায়, তখন নিজেই বলুক। তার আগে নয়। আমরা শুধু চেষ্টা করছি একে-অন্যের সঙ্গে বন্ধুর মতো থাকতে। সেটা শুধু সহজ ন; গোটা পরিবার, কাছের মানুষদের ক্ষেত্রেও সেটা জরুরি। যে, যার নিজের মতো করে ফিগার আউট করার চেষ্টা করছি।” 

অভিনয় করতে এসে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান রাহুল-প্রিয়াঙ্কা। তারা যখন প্রেমের সম্পর্কে জড়ান তখন তাদের বয়স খুবই কম। অল্প বয়সে প্রেমে পড়ে তারাও কাঁটার আঘাত সয়েছেন; ভালোবাসার জন্য সংগ্রাম করেছেন। সবকিছু উপেক্ষা করে সাহসী সিদ্ধান্ত নেন তারা। জীবনের আকাশ থেকে কালো মেঘ সরে যায়, পরিণয় লাভ করে তাদের প্রেম। সময়ের সঙ্গে সুখে ভরে উঠে এ দম্পতির সংসার। কিন্তু নিয়তি চিরতরে তাদের আলাদা করে দিয়েছে। 

‘চিরদিন তুমি যে আমার’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রাখেন প্রিয়াঙ্কা। এতে রাহুলের সঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেন তিনি। সিনেমাটি ব্যবসায়ীকভাবে সফল হয়েছিল। এ ছাড়া ‘শোন মন বলি তোমায়’, ‘বউ বউ খেলা’, ‘রান’, ‘ভালোবাসা জিন্দাবাদ’, ‘লাভ সার্কাস’, ‘গেম’ প্রভৃতি সিনেমায় রাহুলের সঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেছেন প্রিয়াঙ্কা।