আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি হামলা ‘সীমানাহীন বর্ণবাদ’: জাতিসংঘ দূত

জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিষয়ক বিশেষ দূত ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজা অভিমুখী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র ত্রাণবাহী নৌবহরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এই ঘটনাকে ‘সীমানাহীন বর্ণবাদ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। খবর আল-জাজিরার।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের অদূরে ভূমধ্যসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই অভিযান চালায় ইসরায়েল। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ড্রোন, জ্যামার এবং সশস্ত্র কমান্ডো ব্যবহার করে গাজাগামী এই মানবিক বহরকে বাধা দেওয়া হয়।

ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরায়েলি স্পিডবোটগুলো তাদের ঘিরে ফেলে এবং অস্ত্র তাক করে কর্মীদের নৌকার সামনের দিকে হাঁটু গেড়ে বসার নির্দেশ দেয়।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলা গাজা থেকে প্রায় ৬০০ নটিক্যাল মাইল (১ হাজার ১১১ কিলোমিটার) দূরে সংঘটিত হয়েছে। এর আগে ইসরায়েল সর্বোচ্চ ৭২ নটিক্যাল মাইল দূরে এ ধরনের অভিযান চালিয়েছিল। ইসরায়েলি সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গাজা থেকে এত দূরে হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল আন্দোলনকারীদের চমকে দেওয়া।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিষয়ক বিশেষ দূত ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “কীভাবে এটা সম্ভব যে গ্রিস/ইউরোপের ঠিক উপকূলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলকে জাহাজ আক্রমণ ও জব্দ করার অনুমতি দেওয়া হয়?”

তিনি আরো যোগ করেন, “ইসরায়েলের বর্ণবাদী নীতি বা এর গণহত্যাকারী নেতাদের সম্পর্কে আপনার ধারণা যা-ই হোক না কেন, এই ঘটনাটি পুরো ইউরোপজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করা উচিত। এটি আসলে ‘সীমানাহীন বর্ণবাদ’।” 

ফ্লোটিলার মুখপাত্র গুর সাবর এই ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা’ ও ‘অপহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের ওপর অস্ত্র ঠেকিয়ে হামলা চালিয়েছে।”

ইসরায়েলের জাতিসংঘ দূত ড্যানি ড্যানন এই অভিযানকে সমর্থন করে বলেছেন, ‘ভ্রান্ত ও প্রচারণাকামী একদল আন্দোলনকারীকে’ ঠেকাতে ইসরায়েলি সেনারা দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করেছে। জাহাজগুলো ইসরায়েলি জলসীমায় পৌঁছানোর আগেই থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত রবিবার ইতালি থেকে ৫০টিরও বেশি জাহাজের এই বহর গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। এটি গাজায় মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রচেষ্টা। উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরেও অনুরূপ একটি ফ্লোটিলায় হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল, যেখানে গ্রেটা থুনবার্গ এবং নেলসন ম্যান্ডেলার নাতিসহ প্রায় ৪৫০ জন কর্মীকে আটক করা হয়েছিল।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গাজায় ইসরায়েলের চলমান হামলায় এ পর্যন্ত ৭২ হাজার ৫৯৯ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭২ হাজার ৪১১ জন আহত হয়েছেন।