সারা বাংলা

খাগড়াছড়িতে ঝড়-বৃষ্টিতে আম-ধানের ব্যাপক ক্ষতি

খাগড়াছড়িতে কয়েক দিনের ঝড়, বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় আম, ধানসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছে ফল চাষিরা। 

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত জেলায় থেমে থেমে বৃষ্টি এবং ঝড়ো বাতাস হয়। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। 

ঝড়-বৃষ্টিতে বেশি ক্ষতি হয়েছে আম বাগানে। ঝড়ের সময় গাছ থেকে আম ঝরে পড়েছে। এছাড়া আধাপাকা ধানগাছ মাটিতে হেলে পড়েছে। জেলা সদরের ঠাকুরছড়ায় গিয়ে দেখা যায়, অনেকের ক্ষেতের ধান মাটির সঙ্গে মিশে আছে। দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ও কবাখালী এলাকায় টানা বৃষ্টিতে নিচু জমি প্লাবিত হয়ে পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ঘরে তোলার জন্য মাঠে কেটে রাখা ধানও নষ্ট হয়েছে।

একই চিত্র মহালছড়ি ও পানছড়ি উপজেলায়। নিচু জমির ধান ও মৌসুমি সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। 

খাগড়াছড়ি সদরের চম্পাঘাট এলাকার আম বাগানের মালিক চিংপ্রু মারমা ও সুরঞ্জনা চাকমা জানান, তিন দিনের ঝড়-বৃষ্টিতে তাদের বাগানে বহু আম পড়ে গেছে। এতে তারা অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাদের সংসার চালানোর অর্থের বড় অংশ আম বিক্রি থেকে আসে।

ঠাকুরছড়ার ত্রিমতি ত্রিপুরা ও রঞ্জন ত্রিপুরা জানান, এ বছর রোবো ধানের ফলন ভালো হলেও ঝড়ে তাদের আধাপাকা ধান মাটিতে হেলে পড়ে গিয়ে নষ্ট হয়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জেলায় ২২১ হেক্টর জমির ধান, ৬৩ হেক্টর জমির সবজি এবং ৫৪৮ হেক্টর ফল বাগানসহ মোট ৮৩২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

খাগড়াছড়ির কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক ওঙ্কার বিশ্বাস বলেন, কয়েক দিনের ঝড়-বৃষ্টিতে বোরো ধান ও আমসহ ৮৩২ হেক্টর জমির ফলস নষ্ট হয়েছে। সামনে আরো বৃষ্টি সম্ভাবনা আছে, তাই কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান কাটার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সরকারের প্রণোদনা পাওয়া সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।