গৌতম বুদ্ধের দর্শন, মানবতা আর অহিংসার বাণীকে সংগীতে ধারণ করে আবারো নিজের স্বতন্ত্রতার প্রমাণ দিলেন গীতিকবি মাহবুবুল খালিদ। জনসচেতনতা থেকে গণসংগীত, লোকগীতি, হামদ-নাত, শিশুতোষ গান কিংবা প্রেম-বিরহ—প্রতিটি ধারাতেই স্বচ্ছন্দ, সেই সৃষ্টিশীল শিল্পী রচনা করেছেন বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে আধ্যাত্মিক আবহের একটি গান।
‘বৌদ্ধ পূর্ণিমা’ শিরোনামের এই গানে সুর দিয়েছেন ইমন সাহা, কণ্ঠে প্রাণ ঢেলেছেন দিলশাদ নাহার কনা। গানের কথায় উঠে এসেছে ত্যাগ, করুণা ও ভালোবাসার সেই চিরন্তন বাণী—যেখানে রাজপ্রাসাদ ছেড়ে বৃক্ষতলে আশ্রয় নেওয়া এক মহান আত্মার মানবকল্যাণের আহ্বান ধ্বনিত হয়। অহিংসা, ক্ষমা আর মমতার যে শিক্ষা গৌতম বুদ্ধ দিয়ে গেছেন, তা যেন নতুন করে প্রতিধ্বনিত হয়েছে এই গানের প্রতিটি পঙক্তিতে।
মাহবুবুল খালিদের গানে বারবার ফিরে আসে সমাজের বাস্তব চিত্র। ঢাকার মিরপুরের নির্যাতিত শিশু গৃহকর্মীকে নিয়ে লেখা ‘আদুরি’, সীমান্তে নিহত কিশোরীকে ঘিরে ‘ফেলানীরে করল গুলি’, কিংবা মাগুরার শিশুর ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে ‘মাগুরার ফুল’—প্রতিটি সৃষ্টিতেই তিনি তুলে ধরেছেন সময়ের নির্মম সত্য। শুধু দেশ নয়, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও তার কলম উচ্চারণ করেছে মানবতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান।
সম্প্রতি তার লেখা ও সুরে প্রকাশিত প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপ্তির ‘ঘুম থেরাপি এনথেম’ গানটি বেশ সাড়া ফেলেছে। ঘুমের জন্য সংগীতকে থেরাপির মতো ব্যবহার—এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ তার সৃজনশীলতার আরেকটি দিক উন্মোচন করে। বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষাতেই সমান সাবলীল এই গীতিকার নিজের অধিকাংশ গানে নিজেই সুরারোপ করে দেখিয়েছেন তার বহুমাত্রিকতা।
সব মিলিয়ে, সংগীতের ভুবনে মাহবুবুল খালিদের যাত্রা শুধু সুর আর কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি যেন এক ধারাবাহিক মানবিক উচ্চারণ—যেখানে প্রতিবাদ আছে, মমতা আছে, আর আছে পৃথিবীটাকে একটু বেশি সুন্দর করে দেখার স্বপ্ন।