নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সিলেট যাচ্ছেন। তাঁর আগমন ঘিরে নগরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
শনিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে বিমানযোগে সিলেট যাবেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সিলেট নগরের প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও স্থাপনাগুলো নতুন করে সাজানো হয়েছে। রাস্তা মেরামত, সড়কের পাশে গাছপালা ছাঁটাই, সরকারি ভবনের সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে।
সফরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী যাবেন হজরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার শরীফ জিয়ারত করতে। এরপর তিনি বাসিয়া নদী পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এই নদী বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে এমনটি আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একইদিন সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ক্রীড়া কার্যক্রম উদ্বোধন এবং একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বোধন করতে পারেন।
চাঁদনীঘাট এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া প্রকল্পের উদ্বোধনও এই সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে এই প্রকল্পকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সার্কিট হাউস সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী আলিয়া আমজদের ঘড়ি এলাকাও সাজানো হচ্ছে নতুনভাবে, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত অবস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।
সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে রাজনৈতিক কর্মসূচি। সিলেট শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তারেক রহমান। এতে স্থানীয় রাজনীতি ও সংগঠনকে আরো সক্রিয় করার বার্তা দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়াও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মাঠে কাজ করছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট, নজরদারি এবং প্রটোকল অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সফরের সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিটি স্থান আগেভাগেই প্রস্তুত রাখা হচ্ছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি রয়েছেন তারা।
চাঁদনীঘাট এলাকার ব্যবসায়ী বর্মণ দাস বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আসছেন, এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। শহরজুড়ে যে প্রস্তুতি ও সাজসজ্জা চলছে, তাতে একটা উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। আশা করছি, এই সফরের মাধ্যমে সিলেটের উন্নয়নে নতুন কিছু উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন, “বরাবরই তারেক রহমানকে সিলেটবাসী আনন্দের সঙ্গে বরণ করেছেন। এবার তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার সিলেট আসছেন, মানুষ তাকে দেখার জন্য অধির আগ্রহে বসে আছেন।”
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সিলেটজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল থেকে শুরু করে সব জায়গায় ড্রোন উড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মাঠে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।” সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে সিলেট নগরজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।”