সাতসতেরো

‘হায়াসিন্থাস’ ফুলের গায়ে লেগে আছে বন্ধুকে হারানো শোকচিহ্ন

সুদর্শন স্পার্টান তরুণ হায়াসিন্থাস ছিলেন সূর্যদেব অ্যাপোলো-এর অত্যন্ত প্রিয় সঙ্গী। তাদের বন্ধুত্ব ছিল গভীর, প্রাণবন্ত। প্রায়ই তারা একসঙ্গে খেলাধুলা, হাসি-ঠাট্টা আর আনন্দে সময় কাটাতেন।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—একদিন চাকতি নিক্ষেপের খেলায় ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। অ্যাপোলোর ছোড়া চাকতি সোজা গিয়ে লাগে হায়াসিন্থাসের মাথায়। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে, তিনি সেখানেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে প্রাণ ত্যাগ করেন।

প্রিয় বন্ধুর এই করুণ মৃত্যু নিজের চোখের সামনে দেখে অ্যাপোলো শোকে উন্মত্ত হয়ে পড়েন। তিনি হায়াসিন্থাসের আত্মাকে পাতালপুরীতে যেতে দিতে চাননি। অ্যাপোলো চেয়েছেন ভালোবাসা আর শোকের চিরন্তন স্মৃতি হিসেবে, যেখানে হায়াসিন্থাসের রক্ত মাটিতে ঝরেছিল, সেখান থেকেই তিনি সৃষ্টি করেন এক অনিন্দ্যসুন্দর ফুল—হায়াসিন্থ।

কথিত আছে, সেই ফুলের পাপড়িতে যে দাগ দেখা যায়, তা আসলে অ্যাপোলোর অশ্রুবিন্দুর প্রতীক—বন্ধুহারা এক দেবতার শোকগাথা।

হায়াসিন্থাসের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে পরবর্তীতে স্পার্টায় প্রতি বছর ‘হায়াসিন্থাসিয়া’ নামে তিন দিনব্যাপী এক উৎসব পালিত হতো। এই উৎসব ছিল শোক ও আনন্দের এক মিশ্র রূপ—প্রথমে শোক, তারপর জীবন উদ্‌যাপন।

তবে একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য—আজ আমরা যে হায়াসিন্থ ফুল দেখি, তা প্রাচীন গ্রিক ‘হায়াসিঙ্কস’ ফুলের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। ইতিহাসবিদদের মতে, সেই সময়ের ফুলটি দেখতে অনেকটা শাপলা বা পদ্মফুলের মতো ছিল।

এভাবেই হায়াসিন্থাসের গল্প শুধু একটি ট্র্যাজেডি নয়, বরং ভালোবাসা, বন্ধুত্ব এবং স্মৃতির এক চিরন্তন প্রতীক হয়ে রয়ে গেছে।