একজন কৃষক সারাবছর কষ্ট করে জমিতে ফসল ফলান। রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে ফলানো সোনালি ফসল ঘরে তোলার স্বপ্নে অপেক্ষায় কাঠে তাদের প্রতিটি দিন। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সেই স্বপ্ন ভেঙে দিশেহারা হবিগঞ্জের হাওরের কৃষকরা। পানিতে তলিয়ে যাওয়া ক্ষেত দেখে তাদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। চাষিরা জানান, সরকারের জরুরি সহায়তা ছাড়া সামনে কী হবে তা তারা ভাবতেও পারছেন না।
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং, লাখাই, নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলার বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হাওরাঞ্চল মূলত জেলার খাদ্যভান্ডার। চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়। লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন। যা থেকে প্রায় ৫ লাখ ২৯ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের আশা ছিল। সম্ভাব্য বাজারমূল্য ধরা হয়েছিল প্রায় ২ হাজার ৩৮৩ কোটি ২০ লাখ টাকা।
শুক্রবার (১ মে) আজমিরীগঞ্জের কৃষক কাজল মিয়া চোখে পানি নিয়ে জানান, ঋণ করে তিনি বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। বাম্পার ফলনও হয়েছিল। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। এখন তিনি পরিবার নিয়ে দিশেহারা। তার কাছে সংসার চালানোই হয়ে উঠেছে বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের জরুরি সহায়তা ছাড়া সামনে কী হবে, তা তিনি ভাবতেই পারছেন না।
একই চিত্র দেখা যায় লাখাই উপজেলাতেও। সেখানকার কৃষক সজিব মিয়া জানান, তাদের অধিকাংশ জমির ধান ইতোমধ্যেই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেকেই ধান কাটার সুযোগ পাননি। ফলে ক্ষতির পরিমাণ দিনদিন বাড়ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক জানান, ভারী বর্ষণের কারণে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এখনো প্রায় ৪৮ শতাংশ ধান কাটা বাকি রয়েছে। বৃষ্টি ও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা কৃষকদের পাশে থেকে সার্বক্ষণিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ছায়েদুর রহমান জানান, বৃষ্টিপাত কিছুটা কমতে শুরু করেছে। কালনী-কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বাঁধগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।