দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানা দ্রুত চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২ মে) সিলেট নগরের সুরমা নদীর উভয় তীরের সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন শেষে নগর ভবনে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকার গঠনের প্রায় সপ্তাহখানেকের মধ্যেই বন্ধ কলকারখানাগুলো চালু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারখানাগুলো বন্ধ থাকার কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনে সেগুলো বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হবে। যারা এই কারখানাগুলো পরিচালনায় আগ্রহী তাদের কাছে দ্রুত হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।”
কর্মসংস্থান সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, “সিলেটে পর্যাপ্ত শিল্পকারখানা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান না থাকায় এখানকার তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ বেকার রয়েছে। এই সমস্যা শুধু সিলেটের নয়, সারাদেশেই বিদ্যমান। বন্ধ কারখানাগুলো চালু হলে সারাদেশে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।”
তারেক রহমান জানান, শুধু বন্ধ কারখানা চালু করাই নয়, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, মিলকারখানা ও সেবা খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতেও সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, সেসব সমস্যা সমাধানে সরকার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আইটি খাতে কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সিলেটে একটি আইটি পার্ক স্থাপিত হলেও সেটি এখনো পুরোপুরি সচল হয়নি। এই আইটি পার্কটি দ্রুত চালু করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আইটি পার্কটি সচল হলে ফ্রিল্যান্সিং, ডেটা প্রসেসিং ও আইটির বিভিন্ন কাজে যুক্ত তরুণরা সেখানে কাজ করার সুযোগ পাবেন। ফলে তাদের আয় বৃদ্ধির পথ তৈরি হবে।”
এছাড়া দেশের বিভিন্ন ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট আধুনিকায়ন ও উন্নত করার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বিভিন্ন শিক্ষাগত যোগ্যতার মানুষদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।”
প্রধানমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে আগামী ৪ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্টরা তাকে সার্বিক অগ্রগতির প্রতিবেদন দেবেন।
সরকারের বয়স মাত্র আড়াই মাস উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “এরই মধ্যে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের সামগ্রিক কর্মসংস্থান পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।”