প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “বর্ষার সময় এত পানি আসে যে, সেই পানি কোনোভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়। পানি নদী দিয়ে নেমে সমুদ্রে চলে যায়। অর্থাৎ, এই পানি আমরা ব্যবহারও করতে পারছি না। এই বিশাল পরিমাণ বৃষ্টির পানি যদি আমরা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারি; তাহলে একদিকে যেমন জলাবদ্ধতার সমস্যা কমবে, অন্যদিকে কৃষিকাজে ও মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনেও এই পানি ব্যবহার করা সম্ভব হবে।”
শনিবার (২ মে) সিলেট নগরের সুরমা নদীর উভয় তীরের সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন শেষে নগর ভবনে আয়োজিত সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকের দিনটি সুন্দর হলেও বৃষ্টি হচ্ছে। এই বৃষ্টি কারো জন্য সুবিধা আবার কারো জন্য অসুবিধা। বৃষ্টি না থাকলে আজকের এই অনুষ্ঠানটি আরো সুন্দর হতো এবং আরো বেশি মানুষের উপস্থিতি পাওয়া যেত।”
অনুষ্ঠানে আসার পথে শহরের চিত্র তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “বৃষ্টির কারণে শহরের বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে যেতে দেখেছি। বৃষ্টি আরেকটু বেশি হলে অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতা তৈরি হতো। এই জলাবদ্ধতার সমস্যা শুধু সিলেটে নয়, সারাদেশেই বিদ্যমান। এই সমস্যা সমাধানে সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে এবং সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। খাল খননের মাধ্যমে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি ধরে রেখে প্রয়োজনীয় সময়ে মানুষের কাজে লাগানোই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।”
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সিলেট সিটি করপোরেশনসহ সারাদেশে প্রতিদিনের পানির চাহিদার অধিকাংশই ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে মেটানো হচ্ছে। এর ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ধীরে ধীরে নিচে নেমে যাচ্ছে। কৃষিকাজেও একই উৎস থেকে পানি তোলা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে একটি ভয়াবহ অবস্থার দিকে নিয়ে যেতে পারে। খাল খননের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা গেলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং পানির স্তরও স্বাভাবিক থাকবে।”