সারা বাংলা

উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ভ্যান হারিয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দিশাহারা লতিফ

উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ভ্যানটি হারিয়ে গেছে। চারদিন হলো ঘোরেনি ভ্যানের চাকা। আর সেই সঙ্গে আর ঘুরছে না জীবনের চাকাও। আশপাশের বিভিন্ন হাটবাজারে ও পথেঘাটে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ভ্যানের সন্ধান মেলেনি। ভ্যান হারিয়ে এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন চালক মো. আব্দুল লতিফ।

আব্দুল লতিফের বাড়ি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাধাগোবিন্দপুর ধলা গ্রামে। তার স্ত্রী ও দুই ছেলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। কিন্তু সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি চুরি হওয়ায় এখন অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটছে পরিবারটির।

স্থানীয়রা জানান, লতিফের চার সদস্যের পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে আসছে। মাঠের মধ্যে একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করেন তারা। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে, আর ঝড় উঠলে আতঙ্কে রাত কাটে পরিবারের সদস্যদের।

এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দিবাগত রাতে বাড়ি থেকে চুরি হয়ে যায় আব্দুল লতিফের ব্যাটারিচালিত পাখিভ্যান। সেটিই ছিল পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস।

আব্দুল লতিফ জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে প্যাডেলচালিত ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেছেন তিনি। বয়স ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে কয়েক মাস আগে একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ব্যাটারিচালিত ভ্যান কিনেছিলেন। কিন্তু সেই ভ্যান চুরি হয়ে যাওয়ায় এখন ঋণের কিস্তি পরিশোধও সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, “আমাদের ঘর ভাঙাচোরা, সবাই প্রতিবন্ধী। ভ্যানটা ছিল, সেটাও চুরি হয়ে গেছে। এক বেলা খেলে আরেক বেলা না খেয়ে থাকতে হয়।”

এলাকাবাসী জানান, আব্দুল লতিফ ও তার পরিবার অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় রয়েছে। ভ্যান চালিয়েই তাদের সংসার চলত। এখন আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের বসতঘরও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পরিবারটির পাশে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি। তবে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার দাস বলেন, “লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”