আন্তর্জাতিক

ফলতা বিধানসভার সব ভোট বাতিল, ২১ মে ফের নির্বাচন

আগামী ৪ তারিখ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা। তবে গণনার পরেও হবে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ! ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচন নিয়ে এমন নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

শনিবার রাতে নির্বাচন কমিশন এক ঘোষণায় জানায়, “গত ২৯ তারিখ ভোটগ্রহণের দিন নানা অনিয়মের কারণে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের সম্পূর্ণ ভোটগ্রহণ বাতিল করা হলো।”

অর্থাৎ আগামী ৪ তারিখ যে গণনা হবে, সেখানে ২৯৪টি বিধানসভার বদলে ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের ফল বের হবে। ফলতা বিধানসভায় নেওয়া ২৯ এপ্রিলের পুরো ভোটটাই বাতিল করে দেওয়া হলো। এটাকে পুনর্নির্বাচন বলা হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের ভাষায় এটাকে ‘ফ্রেশ পোল’ বলা হচ্ছে।

শনিবার রাত ৯টার পর রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল জানান, ফলতার ২৮৫টি বুথেই ফের ভোট নেওয়া হবে আগামী ২১ মে। নিয়ম অনুযায়ী, সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। ২৪ মে এই কেন্দ্রের গণনা ও ফলপ্রকাশ।

গত ২৯ এপ্রিল, দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে। ওইদিন একাধিক বুথ থেকে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও ইভিএমে বিজেপির প্রতীক টেপ দিয়ে আটকানো, একাধিক বুথে ইভিএমের ব্যালট ইউনিটের বোতামে আঠা বা আঁতর লাগানোর অভিযোগ ওঠে, যা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে প্রভাব ফেলতে পারে বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি ভোটারদের ভয় দেখানো, বুথ দখল, এবং বুথে অবৈধভাবে রাজনৈতিক কর্মীদের উপস্থিতির অভিযোগও উঠে আসে।

এমনকি অভিযোগ উঠেছে খোদ তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধেও। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের বিশেষ নির্বাচনি পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত নিজেই ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র ঘুরে সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে স্ক্রুটিনি রিপোর্ট কমিশনে জমা করেন। এরপরেই শনিবার সম্পূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। অভিযোগের কেন্দ্রে ৩০টি বুথ থাকলেও পুরো বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে বিধানসভা কেন্দ্রের ২৮৫টি বুথেই ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত কমিশনের। 

নির্বাচন কমিশন বলছে, রক্তপাতহীন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে বদ্ধপরিকর কমিশন। প্রথম লক্ষ্য পূরণ হয়েছে অর্থাৎ ভোটের মাঝে রাজনৈতিক সংঘর্ষে কোনো মৃত্যু ঘটেনি। বুথেও কোনো গন্ডগোল হয়নি। ব্যতিক্রম একমাত্র ফলতা। তাই ১০০ শতাংশ স্বচ্ছভাবে নির্বাচন পর্ব মেটাতে এই বিধানসভায় ফের ভোট করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৫৮ এ ধারা অনুযায়ী, যে বিধানসভায় অনেক বুথে ভোটের দিন বিপুল গন্ডগোল হয়েছে, একাধিক অসঙ্গতি দেখা গিয়েছে, সেখানে নির্বাচন কমিশন গোটা বিধানসভায় ফের নতুন করে নির্বাচন করাতে পারে।

কোনো বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থীর মৃত্যুতে পুনর্নির্বাচন আগেও হয়েছে। অন্যদিকে, অশান্তি বা হিংসার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বুথগুলোতে রিপোল হয়েছে, তবে স্বাধীনতার পর অশান্তির কারণে পুরো বিধানসভা কেন্দ্রে নতুন করে ভোটগ্রহণ বা ফ্রেশ পোল আগে কখনও দেখা যায়নি। সেক্ষেত্রে কমিশনের এই সিদ্ধান্ত দেশের ইতিহাসে প্রথম।