শিল্প ও সাহিত্য

সুশান্ত মজুমদার: কথাসাহিত্যের প্রবলতা ও প্রবণতা

আমাদের চেনা কোনো ছকে গল্প বা উপন্যাস লেখেন না সুশান্ত মজুমদার। এমনকি যখন প্রবন্ধ লেখেন, বা লেখেন কোনো আলোচনা, তখনও তা চেনা প্রকরণের পরিধির বাইরে টেনে নিয়ে যায় আমাদের। তবে এই অচেনা পথে হাঁটা তাঁর পাঠকদের জন্য মোটেই আতঙ্কের নয়। আতঙ্কের তো নয়ই; বরং আনন্দের। আতঙ্কিত হলে হতে পারেন প্রথাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক আলোচকবৃন্দ। তাঁরা আতঙ্কিত হলে যা ঘটে, ঠিক সেটাই আমরা ঘটতে দেখছি সুশান্ত মজুমদারের ক্ষেত্রে। কী ঘটে? প্রথাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক আলোচকরা জেঁকে বসে আছেন সাহিত্যের আসরের সবগুলি কুরসি দখল করে। তাদের বেঁধে দেওয়া ছকের বাইরের যে কোনো শিল্পকে তারা অপাংক্তেয় ভাবতে অভ্যস্ত। অন্যকেও সেটাই ভাবাতে অভ্যস্ত। ফলে ‘অন্য পথের পথিক’ দেখলেই হয় তারা বিরূপতা নিয়ে সশব্দ হয়ে ওঠেন, নতুবা পুরোপুরি চেপে যান।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শেষের ঘটনাটি ঘটতে দেখা যায়। অর্থাৎ, প্রমাথী এই ক্ষমতাধররা নিঃশব্দ থেকে তাদের ছকের বাইরের শিল্পকর্মকে অবহেলার অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়ার প্রয়াস চালান। শেষোক্ত এই নিদারুণ মোক্ষম ও প্রাণঘাতী অস্ত্রটির নাম হচ্ছে ‘কনস্পিরেসি অফ সাইলেন্স’। এই ষড়যন্ত্রের শিকার, আরও অনেকের মতোই, সুশান্ত মজুমদারও। তবে সুশান্ত মজুমদার এখনো অপরাহত। রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত হলেও অপরাহত। কারণ পাঠক, বিশেষ করে মনোযোগী পাঠক, এখনো তাঁর সঙ্গেই রয়েছেন। 

বাংলাদেশের কথাসাহিত্যের সঙ্গে দীর্ঘপথ হাঁটছেন সুশান্ত মজুমদার। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমেও যেসব প্রশ্ন অমীমাংসিত রয়ে গেছে, সেগুলির মুখোমুখি হওয়ার মাধ্যম হিসাবে তিনি বেছে নিয়েছেন কথাসাহিত্যকে। হয়তো স্বাধীন বংলাদেশের সমান বয়সী তাঁর এই কথাসাহিত্যের পদচারণা। বেশিও হতে পারে। এই সময়ে সামাজিক-রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন ভাঙচুর তিনি দেখেছেন। শিল্প-সাহিত্যের বিভিন্ন গতিমুখি চলাচলও তাঁর নজর এড়ায়নি। সময়োপযোগী পরিবর্তনকে ধারণ করার জন্য মাঝেমাঝে নিজেকেও যথোপযুক্তভাবে বদলে নেবার চেষ্টাও করেছে তাঁর কলম। তবু যদি এককথায় জানতে চাওয়া  হয় যে কথাসাহিত্যিক সুশান্ত মজুমদারের প্রধান প্রবণতা কী? আমরা খুবই আনন্দিত হতাম, যদি বলতে পারতাম যে, তাঁর প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- চলিষ্ণুতা। 

সৃষ্টিশীল লেখকমাত্রেই জানেন যে চলিষ্ণুতা নামক বৈশিষ্ট্যটি অর্জন করা কতখানি পরিশ্রম ও সাহসের ব্যাপার। একজন লেখক একটি ধারাতে লিখে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে, বিশেষত সেই ধারাটির সঙ্গে যখন পাঠকের আত্মীয়তা স্থাপিত হয়ে যায় এবং সেই ধারাটিকে লেখকের শনাক্তচিহ্ন বলে ভাবতে লেখক নিজেও যখন অভ্যস্ত হয়ে পড়েন, তখন সেই ধারাটিকে, সেই স্বনির্মিত ঘর-দোর-ভিত-গাঁথনি নিজে নিজেই ভেঙে দিয়ে এগিয়ে যাওয়া কত কঠিন, তা একমাত্র সেই সফল ও নির্মম লেখকই বুঝতে পারেন। সুশান্ত মজুমদার যে অতখানি নির্মম হতে পারেননি, সেকথা আমরা, তাঁর মনোযোগী পাঠকরা জানি। সেই কারণেই ‘কনস্পিরেসি অফ সাইলেন্স’ এর প্রবক্তারা তাঁর বিরুদ্ধে বেশ খানিকটা সাফল্য অর্জন করতে পেরেছেন। 

তবে তারপরেও সুশান্ত মজুমদার আমাদের কাছে প্রায় অপরিহার্যই  একজন লেখক। অপরিহার্য, কারণ আমাদের সীমিত ভূগোল ও ইতিহাসের কথাসাহিত্যে তিনি এমন কিছু মানচিত্র ও জীবনের আখ্যান যোগ করেছেন, যা, সামান্য কয়েকজন ব্যতিক্রম ছাড়া, তাঁর পূর্বসূরি, সমকালীন বা অনুজরা কেউ-ই করেননি। তাঁর এইসব রচনা কালজয়ী হবে কি না সেকথা কাল-ই বলবে, কিন্তু  সমকালে যে সেগুলি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক তা আমাদের স্বল্পপরিসরের লেখক-পাঠকগোষ্ঠীর কাছেও মোটামুটি পরিষ্কার। আমাদের দেশেও যে মানুষ, বিশেষ করে, প্রাগ্রসর ও মেধাবী তরুণ-যুবকরা মানুষের সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে জীবনপণ করে সমাজবদলের লড়াইতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, সেই ঘটনা বা সেই ইতিহাসের বর্ণনা আমাদের দেশের অমানবিক ক্যারিয়ারসর্বস্ব, স্থূল ভোগবাদী মানসিকতার অধিকারী, নিজসর্বস্ব চিন্তাজগতের অধিকারী, এবং পুঁজিবাদী বিশ্বায়নের নামে নামেই শুধু বিশ্বমুখীন কিন্তু বাস্তবে চরম কূপমণ্ডুক যুবসমাজের কাছে অবাস্তব গল্প বলে মনে হবে।

দলে দলে মেধাবী যুবকরা নিজেদের নিশ্চিত ক্যারিয়ার এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠাকে অবহেলায় জলাঞ্জলি দিয়ে, এমনকি পরাজয় নিশ্চিত জেনেও লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে পিছু না হটে উত্তরপ্রজন্মের জন্য গৌরবের সমাচার রেখে গেছেন কেন বা কোন প্রেরণায়, তা রাজনীতির নামে ক্ষমতা ও বিত্তের প্রতিযোগিতা দেখতে ও করতে অভ্যস্ত আজকের তরুণের কাছে বোধগম্য হতে চায় না। সেই তরুণদের কাছে তো সুশান্ত মজুমদারের লেখা প্রায় অচেনা জগতের বয়ান। আর আমরাও প্রায় ভুলে গেলেও, সবটা যে ভুলে যাইনি এখনো, তার জন্য আমাদের মনের কোণে সুশান্ত মজুমদারের মতো লেখকদের জন্য একটু কৃতজ্ঞতার বোধ, কিংবা একটু ঋণবোধের অনুভব থেকেই যায়।

হারিয়ে যাওয়া সেইসব বিপ্লবী, যাঁরা আজ প্রায় বিরল প্রজাতির প্রাণী, তাদের কেমনভাবে তুলে আনেন সুশান্ত মজুমদার? সেই সময়ের যথার্থ নায়কদের আঁকতে গিয়ে ইচ্ছাপূরণের ফাঁদে কি আটকা পড়েন লেখক?     

গ্রামের স্কুলপড়ুয়া কিশোররা এমন একজন মানুষকে দেখতে পায়, যাকে দেখে তাদের মনে হয় ‘কস্মিনও এমন পরিচ্ছন্ন মানুষ দেখিনি, এই মানুষের মুখ আমাদের পরিচিত নয়, তাঁর কণ্ঠস্বরও মোলায়েম। আমরা মনে করি আমাদের শিক্ষকদের। সেই স্কুলেরও কোনো শিক্ষক তাঁর মতো সৌম্য দর্শন নয়। অমন পরিপাটি চুল আঁচড়ে রাখার কথা জানি না। আমরা চমৎকার পরিচ্ছন্ন মানুষ দেখার অনুভূতি নিয়ে যার যার ঘরে ফিরি।’ সেই এক দেখাই তো শেষ নয়। তাঁর সঙ্গে আবারও তো দেখা হবে কিশোরদের। কারণ তাঁকে কর্মক্ষেত্র হিসাবে বেছে নিতে হয়েছে তাদের গ্রামকেই। তাই আবারও তাঁকে কিশোররা দেখতে পায় পরনে সাদা ফিনফিনে পাজামা-পাঞ্জাবি, পায়ে স্যান্ডেল, তিনি স্কুলের মাঠের মধ্য দিয়ে হেঁটে চলেছেন।

কিশোরদল নদী থেকে দৈত্য উঠে আসার আশঙ্কা নিয়ে বলাবলি করলে তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করেন- কেউ কোনোদিন দৈত্য দেখেছে কি না? আর জিজ্ঞেস করেন যে তাদের ক্লাসে বিজ্ঞান পড়ানো হয় কি না? উত্তরের অপেক্ষা না করেই মন্তব্য করেন- ‘তোমাদের কি দোষ। তোমাদের অন্ধকারে রেখে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি কি তাহলে আলো নিয়ে এসেছেন? সেই আলো ভেতরে রয়েছে বলেই কি বাইরে তাঁর চেহারায় এমন আলোক-উজ্জ্বলতা? কিন্তু তাঁকে দেখে স্কুলের নিবারণ স্যার তাচ্ছিল্যের সাথে হাত নেড়ে বলেন ‘হু, উনি সবাইরে সমান করবেন! দুইদিনের যুগি ভাতরে বলে অন্ন।’ 

কিশোরদের সমস্ত মনোযোগ কেড়ে নেওয়া সেই স্বপ্নপুরুষ নিবারণ স্যারের কাছে নেহায়েত এমন একজন মানুষ যে কিনা ‘ঘরের ভাত খাইয়ে বনের মোষ কিলিয়ে বেড়ায়’।

নিবারণ স্যার কিশোরদের পইপই করে বলে ঐ মানুষটা থেকে দূরে থাকতে। বুঝদার সকল মানুষ নিজেদের কাছের জোয়ান ছেলেদের হুঁশিয়ারি দেয় ঐ শহুরে যুবক থেকে দূরে থাকতে। আশু ডাক্তার তার বন্ধুর জোয়ান ছেলে পরিতোষকে এই বলেও নিরস্ত করতে চায় যে ‘তুমি হিন্দুর ছেইলে, তোমার এসবে কাজডা কি?’ প্রয়োজনে ধর্মের দোহাই, প্রয়োজনে সাম্প্রদায়িকতার দোহাই, প্রয়োজনে বাপ-মায়ের মাথার দিব্যি, প্রয়োজনে সংসারের অন্যদের প্রতি দায়িত্বপালনের দোহাই- সবকিছুই ব্যবহৃত হয় তরুণদের উদ্দেশ্যে ঐ কমিউনিস্ট থেকে দূরে থাকার জন্য। একজন আরেকজনকে এই বলে সাবধান করে- ‘লাল নিশান। হুঁশিয়ার। গ্রামগঞ্জে নকশাল ঢুকেছে!’

কিন্তু তবুও কিছু যুবক কোনো নিষেধই শোনে না। কমরেডের প্রতি মুগ্ধতা, না কি শ্রেণীসংগ্রাম উপলব্ধি করতে পারা- কোনটা যে তাদের টেনে আনে কমরেডের কাছে, সেটি আমাদের মতো পাঠকদের কাছেও যেমন পরিষ্কার হয় না, তেমনই বোধহয় পরিষ্কার ছিল না কমরেডের কাছেও। তবুও তো কিছু কিছু ঘটনা ঘটতে থাকে। দীর্ঘদিনের স্থিতাবস্থা নাড়া খেতে থাকে একটু একটু হলেও। ‘যে দোতলা কাঠের বাড়ির আঙ্গিনায় বাতাসও ভদ্র এবং নিরীহ-  পরমানন্দে পুকুরের টলটলে পানিতে পেট দেখায় রূপালী মাছ, গাছের গোড়া পরিচ্ছন্ন ও সুশীতল; যে বাড়ির মেয়েরা হাতের সোনার বালা নেড়ে গঞ্জে নৌকা ভিড়িয়ে জিলিপি খরিদ করে- পাখির মাংস খায় ছেলেরা বন্দুক মেরে, যে বাড়িতে কোনো দুঃখের প্রবেশ নেই, সেই এলাকাপ্রধানের বাড়ির মানুষও এই প্রথম নিরাপত্তাহীনতা নামক অনুভূতির মুখোমুখি হয়ে প্রথমে বিমূঢ়, এবং পরে সর্বাত্মক যুদ্ধংদেহী হয়ে ওঠে। কোনোদিন কেউ যা ভাবতে পারেনি, সেই বাড়ির লম্পটশিরোমণি মেজো ছেলের লাশ পাওয়া যায় চরের পলিমাখা মাটিতে। সেই বাড়ির ধানের গোলা পুড়ে যায় রাতের আঁধারে। নিবারণ স্যার স্কুলের ছেলেদের কমরেড থেকে দূরে থাকার হুকুম জারি করলেও দেখা যায় তাঁর সন্তান বিমলই হয়ে ওঠে কমরেডের ডানহাত। 

নিবারণ স্যার ছেলের সামনে মোক্ষম সেই যুক্তিটি তুলে ধরেন- ‘তোরা যার পরামস্যে নাচতিছিস, সেই শহরের মানুষডা তো শহরে চইলে যাবে, তখন তোরা...’। বিমল একটা কোনো উত্তর তখন দেয় বটে, কিন্তু প্রশ্নটি এই প্রায় আশি বছর পরেও যে কমিউনিস্ট আন্দোলনের সামনে একইভাবে  ঝুলে থাকে তা তো আমরা চোখ ঘোরালেই দেখতে পাই।

সুশান্ত মজুমদারও সৎ শিল্পীর মতোই কোনো প্রশ্নই এড়িয়ে যেতে চান না, কোনো ঘটনাকেই আড়াল করতে চান না, কোনো দ্বন্দ্বেরই দায়সাড়া সমাধান দেখাতে চান না। তাই আমরা দেখতে থাকি রূপকথার রাজপুত্রের মতো গাঁয়ে আগমনকারী কমরেডের ঔজ্জ্বল্য ধীরে ধীরে কমতে থাকে। কিছু কমায় তার নিজের মানসিক দ্বন্দ্ব, কিছু ঔজ্জ্বল্য ঝরিয়ে দেয় তার পার্টির ভলান্টিয়ারিজম নামক বামপন্থার শিশুরোগ।

স্কুলের কিশোরদের মুগ্ধচোখ একসময় আর কমরেডকে দেখতে পায় না। জোতদার আর পুলিশের সাথে ছয় দফার বাহিনী মিলে বিমলের বউকে বিধবা বানায়, আকরাম অত্যাচারিত হয়ে আর জনসমক্ষে আসে না, জাতীয়তাবাদী রাজনীতির পাঁকে এভাবেই তলিয়ে যায় মানুষের মুক্তির আন্দোলন। চরের জমি আবার চলে যায় তালুকদারের দখলে, মানুষ তা আগের মতোই নির্বিবাদে মেনে নেয়, মানুষ হাটে যায়, চুলে বাটিছাঁট দিতে নাপিতের দু’ঠ্যাংয়ের মধ্যে মুণ্ডু বাড়িয়ে দেয়, অন্য কোনো তালুকদারের মেজো ছেলে বা অন্য কোনো ছেলে মেয়েদের দিকে বদনজর দেয়, হাতে ঘড়ি বেঁধে শিস দিতে দিতে এবাড়ি-ওবাড়িতে যৌনশিকার খোঁজে, গাঁয়ে যখন-তখন পুলিশ আসে, যাকে খুশি হয়রানি করে... দিনের পরে দিন যায়, পুলিশের পাশাপাশি রক্ষীবাহিনী তৈরি হয়, তারপরে র‌্যাব, আসে নতুন নতুন শব্দ যেমন ক্রসফায়ার, মানুষ রাজনীতি বলতে বোঝে দুইজনের রাজনীতি, প্রথমে মুজিব-জিয়ার রাজনীতি, পরে মুজিবের বেটি আর জিয়ার বউয়ের রাজনীতি, দুই দলের বাইরে আর কারও কোনো কথা মানুষের কানের কাছে পৌঁছে না, স্রেফ কানের ওপর দিয়ে বাতাসে মিলিয়ে যায়, মানুষ জানে দুই দলের কোনোটাতেই তাদের মুক্তি নাই তবু দুইটার একটাকে বেছে নিতে হবে, এটাই তারা তাদের অনন্তকালের ভবিতব্য বলে মেনে নেয়, খেতে-না-পাওয়া ঘরের ছেলেরা বাড়ির সদস্যদের জন্যে ভাত না-আনতে পারুক নিজেদের জন্যে নেশার অব্যাহত সরবরাহের নিশ্চয়তা পায়, মানুষ এখন আর অতীত দ্যাখে না ভবিষ্যৎ দ্যাখে না- শুধু বর্তমানে যেনতেনভাবে বেঁচে থাকতে শেখে, বেঁচে থাকার উপায়ের অকুলান হলে কিংবা তার বেঁচে থাকাটা ক্ষমতাবানের চোখে অপ্রয়োজনীয় মনে হলে  নির্বিকারে মরে যায়। কোনো প্রশ্ন তোলে না কেউ। প্রশ্ন তোলার ইচ্ছেটাই বোধহয় মরে গেছে। 

আর এদিকে সুশান্ত মজুমদারের কলম মাঝে মাঝেই বিরতি নিতে থাকে। সেই বিরতির দৈর্ঘ্য বাড়তে থাকে। সেই দীর্ঘ বিরতি মাঝে মাঝে এত অস্বাভাবিক দীর্ঘ হয়ে পড়ে যে তখন অর্বাচীন এই আমাদের মনে এমত সন্দেহও উঁকিঝুকি মারতে থাকে যে সুশান্ত মজুমদারও বোধকরি ভেবে পাচ্ছেন না এখন ‘কী করিতে হইবে’! অবশ্য আমরা কেই-ই বা জানি এখন ‘কী করিতে হইবে’!