রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের একাধিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভিপি ও কয়েকজন সম্পাদকের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ক্যাম্পাসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
শনিবার (২ মে) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ নামক গ্রুপে জিএস সালাউদ্দিন আম্মার ও ব্যাক্তিগত ফেসবুক পেইজের টাইমলাইনে ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ পোস্ট করলে দ্বন্দ্বের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
জিএস সালাউদ্দিন আম্মার অভিযোগ করেন, “পরিষদের অধিকাংশ সদস্য শিবির প্যানেল থেকে নির্বাচিত হওয়ায় ভিন্ন প্যানেলের প্রতিনিধিদের মতামত যথাযথ গুরুত্ব পায় না। আমিসহ তিনজন ভিন্ন প্যানেলের হওয়ায় আমাদের মতামত স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণযোগ্য হয় না। অনেক সময় সম্পাদকরা ভিপির সংশ্লিষ্টতায় প্রোগ্রাম আয়োজন ও অতিথি নির্বাচন করে থাকেন।” সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে উপস্থিত হননি বলেও জানান। স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রশ্নে এসব কার্যক্রমে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল রাকসু আয়োজিত ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে: সংকট পথে দেশ’ শীর্ষক সেমিনারে অতিথি হিসেবে আইনজীবী শিশির মনির ও ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ অংশ নেন। ওই অনুষ্ঠানের ব্যানারে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের জন্য জিএস সালাউদ্দিন আম্মার এবং শিবির-সমর্থিত প্যানেলের পরাজিত জিএস (বর্তমানে সিনেট সদস্য) ফাহিম রেজার নাম ছিল। এতে আপত্তি থাকায় আম্মার ওই প্রোগ্রামে অংশ নেননি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ জিএসের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও মনগড়া’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, "শিবির-সমর্থিত প্যানেলের বাইরে থাকা সদস্যদের মতামত উপেক্ষার কোনো নির্দিষ্ট উদাহরণ জিএস দিতে পারেননি; বরং তার ইশতেহার বাস্তবায়নে সবাই সহযোগিতা করছে।”
তিনি আরো বলেন, “আমি অন্যদের কনসার্নে নাকি প্রোগ্রাম আয়োজন ও অতিথি নির্বাচন করে থাকি। এটাও ভিত্তিহীন ও খাপছাড়া কথা বলল। ভিপি-জিএসের উপস্থিতিতে রাকসু সভাপতির অনুমতিতে সম্পাদকগণ তাদের অ্যাজেন্ডা পাস করিয়ে নেয়। পরবর্তীকালে, সম্পাদকগণ নিজের ইচ্ছেমতো প্রোগ্রাম অ্যারেঞ্জ করে থাকে, যেখানে আমাকে ও আম্মারকে অতিথি বা আলোচক হিশেবে আমন্ত্রণ করে থাকে। এভাবেই রাকসু ফাংশন করছে। এটাই এখনকার রাকসুর প্রতিষ্ঠিত নিয়ম। অথচ, আম্মার বলল ভিপির কনসার্নে প্রোগ্রাম ও অতিথি নির্বাচন হয়। এটা বাজারি কথা ছাড়া আর কিছুই না।”
ভিপি জাহিদ আরো বলেন, “রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্যবিষয়ক বিভাগ থেকে গণভোট নিয়ে যে সেমিনার হয়েছে, সেখানে সে নাকি ইচ্ছা করেই উপস্থিত হয় নাই। অথচ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আমার কাছ থেকে ছুটি নিয়েছে। মিডিয়ায় এক কথা, রাকসু অধিবেশনে আরেক কথা এটা রাকসুর প্রতিনিধির বক্তব্য হতে পারে না।”
জিএসের সাম্প্রতিক কার্যকলাপ নিয়ে ভিপি জাহিদ বলেন, “সালাউদ্দিন আম্মার অতীতেও এমনটা করেছে। তখন জবাব দেইনি। জবাব দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করিনি। কিন্তু সে দিনদিন লাগামহীন ভুলভাল কথা বলছে, যা মিথ্যা অপবাদতুল্য। সালাউদ্দিন আম্মারের অবহেলাজনিত কাজের ফিরিস্তি অনেক বড়। সে কথা বলা শুরু করলে, শেষ হবে না। সালাউদ্দিন আম্মার যেভাবে মিডিয়ায় বানোয়াট, অপতথ্য ও মনগড়া কথা দিয়ে সরব, সেভাবে যদি রাকসুর কাজে মনোযোগ দিতো তাহলে রাকসুর সম্পাদকদের কাজ অনেকটা সহজ হয়ে যেত।”
রাকসুর জিএসের এসব অভিযোগ নাকচ করেছেন রাকসুর সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক জাহিদ হোসেন জোহাও। তিনি বলেন, “নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করতে গিয়ে জিএস অন্যদের দোষারোপ করছেন। তার স্বেচ্ছাচারিতার বিরোধিতা করলেই সেটাকে তিনি নিজের বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে দেখান।”
তিনি আরো বলেন, “জিএস এখন জাতীয় রাজনীতি নিয়ে মুখিয়ে আছে। তাই ক্যাম্পাসের ব্যাপার তাকে গুটিয়ে ফেলতে হবে। আর সেটার প্রথম চাল এটাই যে নিজেকে মাইনাস প্লেয়ার হিসেবে উপস্থাপন করবে। এছাড়া, সে নিজেও অনেকদিন আলোচনার বাইরে আছে। আলোচনায় আসাটাও খুব জরুরি। তা নাহলে প্রায় একমাস আগের একটা আয়োজনের ইস্যু টেনে মিডিয়ায় এমন বক্তব্য দেওয়ার কোনো কারণই দেখি না।”
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে শিবির-সমর্থিত প্যানেল। নির্বাচনে ২৩টি পদের মধ্যে ভিপি-এজিএস সহ ২০টিতেই জয় পেয়েছে শিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা।