অর্থনীতি

এপ্রিলে রপ্তানি আয় ৪ বিলিয়ন ডলার

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে। এ মাসে মোট রপ্তানি আয় ৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি। টানা কয়েক মাস পর তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতে রপ্তানিতে এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি এসেছে। এটি সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন আশা জাগিয়েছে।

রবিবার (৩ মে) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) পণ্য রপ্তানির মাসভিত্তিক হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, সদ্য সমাপ্ত এপ্রিল মাসে রপ্তানি আয় ৪০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তা ৩২ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি। গত বছর এপ্রিল মাসে রপ্তানি আয় ছিল ৩০১ কোটি ডলার।

চলতি বছরের মার্চ মাসে রপ্তানি আয় ছিল ৩৪৮ কোটি ডলার, যার তুলনায় এপ্রিলে আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ২০ শতাংশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পণ্য রপ্তানিতে প্রায় ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। তারপর টানা ৮ মাস পণ্য রপ্তানি কমেছে। তবে, পতনের ধারা ভেঙে এপ্রিলে রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যা কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে রপ্তানি খাতে।

রপ্তানি আয়ের এই প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে দেশের রপ্তানির প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প। এপ্রিলে খাতটি থেকে আয় হয়েছে ৩১৪ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি। গত বছরের এপ্রিলে তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় ছিল ২৩৯ কোটি ডলার। এছাড়া, এপ্রিলে  নিট পোশাকের রপ্তানি ৩০ শতাংশ এবং ওভেন পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩২ শতাংশ।

বিকেএমইএ ও ইএবির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, “রপ্তানির প্রকৃত অবস্থা বুঝতে হলে আমাদেরকে জুলাই মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ, মে মাসের ঈদের প্রভাবের কারণে জুন মাসে রপ্তানি সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।”

তিনি বলেন, “গত এপ্রিল মাসে আমাদের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে যে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, তা মূলত আগের মাসে রপ্তানি কম হওয়ার কারণে হয়েছে।”

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই থেকে এপ্রিল) ৩ হাজার ৯৩৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ০২ শতাংশ কম। গেল অর্থবছরে একই সময় রপ্তানি আয় ছিল ৪ হাজার ২০ কোটি ডলার।

ইপিবির প্রতিবেদনে অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে তৈরি পোশাক খাতেই নয়, দেশের অন্যান্য প্রধান রপ্তানি খাতেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি এসেছে। কৃষিপণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল এবং প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি আয়ও এ সময়ে বেড়েছে।